মনিরামপুরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দুই আ.লীগ নেতার পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নৌকা প্রার্থীর বিরুদ্ধে হামলা ভাঙচুর ও নির্বাচনী দায়িত্বপালনকারী ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন যশোর-৫ মনিরামপুর আসনের ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য মো. ইয়াকুব আলী। এছাড়া তিনি জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরের শহীদ আরএম সাইফুল আলম মুকুল অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রচারণা শুরুর পর থেকে নির্বাচনী এলাকায় এক ধরনের ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে নৌকার প্রার্থী স্বপন ভট্টাচার্য্যরে লোকজন। ইতোমধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় চরপন্থীদের আনাগোনা বেড়েছে। পরিস্থিতিদৃষ্টে যা মনে হচ্ছে সামনে ভোটের পরিবেশ থাকবে বলে মনে হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে স্বতন্ত্রপ্রার্থী ইয়াকুব আলীর এ অভিযোগকে নাকচ করে নৌকার প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মানিত সদস্য প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য দুপুর ৩ টার দিকে মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তিনি হামলার নাটক সাজিয়ে নির্বাচনে ফায়দা নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দিয়ে উস্কানি ছড়ানোর অভিযোগ করেন।
দুপুরে প্রেস ক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াকুব আলী তার কর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগ তোলার পাশাপাশি সেখানকার নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে বলেন, আমার সমর্থকরা পোস্টার লাগানোর সময় নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট (উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা) আলী হাসান নানাভাবে হয়রানি করছেন। এমনকি পোস্টারের সাইজ বড় বলে অজুহাত দেখিয়ে তা মারতে নিষেধ করেন তিনি। অথচ নৌকার পোস্টার আর আমার পোস্টার একই মাপের।
তিনি বলেন, গত পরশু রাতে বেলাাল নামে আমার এক কর্মী নৌকার সমর্থকদের হাতে মারধরের শিকার হলেও দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাকেই ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, গত ৩ দিনে তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর ৩ বার হামলা চালিয়েছে নৌকার সমর্থকরা। এতে অন্তত ১৪-১৫ জন আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে সব সময় উস্কানি দিচ্ছে নৌকার প্রার্থী প্রতিমন্ত্রীর ছেলে শুভ ও তার ভাগ্নে। আমরা যেখানে যাচ্ছি সেখানেই তারা মহড়া দিচ্ছে। সর্বশেষ গত বুধবার বিকেলে নির্বাচনী এলাকার কুয়াদা বাজারে আমার প্রচারণার সময় হামলা চালায়। এসময় আমার গাড়িও ভাঙচুর করে তারা। নেতাকর্মীদের মারধর করে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি যা মনে হচ্ছে তা হলো এখনো পর্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করার মত পরিবেশ তৈরি হয়নি মনিরামপুরে। তিনি বলেন, নৌকার সমর্থকরা বলে বেড়াচ্ছেন ২২ তারিখের পর আর মাঠে নামতে দেয়া হবে না। এমনকি প্রতিমন্ত্রী তার প্রচারণা সভায় আমার পক্ষে কাজ করা আওয়ামী লীগ নেতাদের ৭ জানুয়ারির পর দেখে নেবেন বলে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় চরমপন্থীর আনাগোনা বেড়েছে বলেও স্বতন্ত্রপ্রার্থী ইয়াকুব আলী দাবি করেন।
এদিকে এ বিষয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী স্বপন ভট্টাচার্য্য পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক প্রচারণার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তুলছে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াকুব আলী নিজেই। তারা অপপ্রচার চালাতে নিজেরাই হামলার নাটক সাজিয়েছে।
তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে রাজনীতি করে আসছি, তিন বার সংসদ নির্বাচন করেছি। কখনোই আমি সন্ত্রাসের আশ্রয় নেইনি। তাছাড়া প্রশাসনও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। বরং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তার পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে বলা হচ্ছে, যে ব্যক্তি জানাজায় অংশ নিতে পারবে তাকে নির্বাচিত করতে হবে। এটি স্পষ্ট সাম্প্রদায়িক বক্তব্য বলে তিনি দাবি করেন। পৃথক দৃটি সংবাদ সম্মেলনে স্ব স্ব প্রার্থীর সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।