মনিরামপুরের প্রতারকের বিরুদ্ধে আদালতে দুটি মামলা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দুই ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতারণা করে নয় বছর আগে ১৯ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে ইলিয়াস মামুন (৩৪) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বুধবার যশোরের আদালতে পৃথক মামলা হয়েছে। মণিরামপুর উপজেলার ইত্যা গ্রামের মৃত মকছেদ মোড়লের ছেলে শামিম আক্তার ও আব্দুস সাত্তারের ছেলে আজহারুল ইসলাম পৃথক এই মামলা করেছেন।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম কিবরিয়া অভিযোগ দুটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে আদেশ দিয়েছেন। অভিযুক্ত ইলিয়াস মামুন একই গ্রামের মোসলেম উদ্দীনের ছেলে।
একটি মামলার শামিম আক্তারের অভিযোগ, আসামি ইলিয়াস মামুন এবং তিনি একই পাড়ায় বসবাস করেন। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে ইলিয়াস মামুন তাকে জানান যে, যৌথভাবে ব্যবসার জন্য সরকারি ২ কোটি ঋণ পাওয়া যাবে। ঋণ গ্রহণে শামিম আক্তার রাজি আছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি এতে সম্মতি প্রকাশ করেছেন। শামিম আক্তারের দুই সঙ্গীও ঋণ গ্রহণের জন্য রাজি হন। এ সময় ইলিয়াস মামুন তাদেরকে বলেন, ঋণ গ্রহণের ৮ বছর পর শতকরা ১ টাকা হারে সুদ দিতে হবে। তাছাড়া ২ কোটি টাকা ঋণ নিতে হলে সরকারি কর্মকর্তাদের ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে। এর মধ্যে ১৫ লাখ টাকা প্রথমে এবং ঋণ অনুমোদন হলে বাকি ৩৫ লাখ টাকা দিতে হবে সরকারি কর্মকর্তাদের।
ফলে কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের আশায় ২০১৫ সালের ২২ মে পর্যন্ত তিন দফায় মোট ১৫ লাখ টাকা ইলিয়াস মামুনকে দেন শামিম আক্তার ও তার দুই সঙ্গী। কিন্তু ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার পরও বিভিন্ন অজুহাতে ইলিয়াস মামুন আরও টাকা দাবি করায় শামিম আক্তার ও তার দুই সঙ্গীর সন্দেহ হয়। তারা ঋণ প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট দফতরে যেতে চাইলে তাদের সেখানে নিতে অস্বীকার করেন ইলিয়াস মামুন।
এ কারণে তারা তার কাছে ১৫ লাখ টাকা ফেরত চান। কিন্তু টাকা ফেরত দিতে ইলিয়াস মামুন দীর্ঘদিন দরে টালবাহনা করে আসছেন। সর্বশেষ গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইলিয়াস মামুনকে ডেকে তার কাছে টাকা ফেরত চান শামিম আক্তার। এ সময় ইলিয়াস মামুন টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন।
অপর মামলার বাদী আজহারুল ইসলামের অভিযোগ, আসামি ইলিয়াস মামুন ২০১৪ সালের জুনে যশোর সেনানিবাসে অফিস সহকারী পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৭ লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি তার কথায় বিশ্বাস করে চাকরির জন্য ৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হন। আজহারুল ইসলামকে বলা হয়, প্রথমে ৪ লাখ টাকা এবং নিয়োগপত্র পাওয়ার পর বাকি ৩ লাখ টাকা দিতে হবে। এর প্রেক্ষিতে ৩ দফায় ইলিয়াস মামুনকে মোট ৪ লাখ টাকা দেন আজহারুল ইসলাম।
টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আজহারুল ইসলামকে চাকরি পাইয়ে দিতে ব্যর্থ হন ইলিয়াস মামুন। যে কারণে আজহারুল ইসলাম টাকা ফেরত চাইলে টালবাহনা করতে থাকেন ইলিয়াস মামুন। দীর্ঘদিন ধরে টালবাহনার এক পর্যায়ে আজহারুল ইসলাম গত ১৪ আগস্ট ইলিয়াস মামুনকে ডেকে টাকা ফেরত চাইলে দিতে অস্বীকার করেন। ইলিয়াস মামুন তাকে সাফ জানিয়ে দেন তিনি টাকা ফেরত দিবেন না। এ কারণে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন আজহারুল ইসলাম।