যশোরে হেরোইনের ২ মামলায় নারীসহ দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে হেরোইনের দুই মামলায় সোমবার নারীসহ ২ জনকে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন পৃথক আদালত।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, শহরের শংকরপুরের ছোট বাবুর স্ত্রী প্রিয়া বেগম ওরফে আলেয়া ওরফে সুপ্রিয়া ও রেলবাজার এলাকার পঞ্চানন অধিকারীর ছেলে হারুলাল অধিকারী।
একটি মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০০২ সালের ১৫ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিজিবির নায়েক সুবেদার মো. আবু সাইদ বেনাপোলের বড়আঁচড়ায় টহলে ছিলেন। এ সময় ভারত সীমান্ত এলাকা থেকে এক ব্যক্তিকে আসতে দেখে তার সন্দেহ হয়। এ কারণে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর ওই ব্যক্তি নিজের নাম হারুলাল অধিকারী বলে জানান। পরে তার শরীরে তল্লাশি চালিয়ে তার ফতুয়ার পকেট থেকে ১৭০ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় বেনাপোল পোর্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়।
ওই মামলায় আসামি হারুলাল অধিকারীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় যশোরের স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ সামছুল হক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যুর আদেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্পেশাল পিপি সাজ্জাদ মোস্তফা রাজা।
অপর মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৭ সালের ৩ জুলাই সকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সদস্যরা যশোর শহরের শংকরপুরে জনৈক মেহেদি হাসানের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে অভিযান চালান। এ সময় তার বাড়ির ভাড়াটিয়া প্রিয়া বেগম ওরফে আলেয়া ওরফে সুপ্রিয়াকে তারা ৮৩ গ্রাম হেরোইনসহ আটক করেন। এ ঘটনায় প্রিয়া বেগম ও তার স্বামী ছোট বাবু এবং বাড়ির মালিক মেহেদি হাসানকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক সাইদুর রহমান।
ওই মামলায় আসামি প্রিয়া বেগমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অতিরিক্ত দায়রা জজ তাজুল ইসলাম তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এছাড়া অপর দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পিপি মো. আসাদুজ্জামান।