রাজগঞ্জে লাইসেন্স ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল

0

ওসমান গণি, রাজগঞ্জ (যশোর)॥ যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় অনুমোদন ছাড়াই অবাধে পেট্রোল ও ডিজেলসহ বিভিন্ন জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে। বাসা বাড়ির নিচে এবং মুদি দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন দোকানে প্রকাশ্যে চলছে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল কেনাবেচা। এতে যে কোন সময় প্রাণহানিসহ ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। বৃহত্তর এ উপজেলার তেলের ডিলারসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ভুক্তভোগিরা অবৈধভাবে ঝাঁকিপূর্ণ এ ব্যবসার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। মণিরামপুর উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ১৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজার ও সড়কের পাশে প্রকাশ্যে পেট্রোল,অকটেন ও ডিলের ব্যবসা করছেন মানুষ। তাদের এ ব্যবসায় যশোর জেলা প্রশাসকের অনাপত্তিপত্র ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কোন অনুমোদন নেই বলে জানা যায়। অনেকে আবার বাসা বাড়ির নিচে দোকান ভাড়া নিয়ে তেল বিক্রি করছেন। উপজেলার রোহিতা, কাশিমনগর, ভোজগাতী, ঢাকুরিয়া, হরিদাসকাটি, মণিরামপুর সদর, খেদাপাড়া, হরিহরনগর, ঝাঁপা, মশ্মিমনগর, চালুয়াহাটী, শ্যামকুড়, খানপুর, দুর্বাডাঙ্গা, কুলটিয়া, নেহালপুর এবং ১৭ নং মনোহরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারের মুদি দোকান ও সড়কের পাশে বোতলে করে প্রকাশ্যে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার যেন কেউ নেই। মণিরামপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস অফিসের ইনচার্জ প্রণব কুমার জানান, সড়কের পাশে সাজিয়ে রেখে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা খুবই বিপদজনক। এছাড়া যত্রতত্র পেট্রোল বা দাহ্য পদার্থ বিক্রির কারণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডসহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। ফলে খোলা বাজারে গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রোল, অকটেন এবং ডিজেল বিক্রি করার কোন নিয়ম নেই। বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ এ সকল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। যশোর জেলা ফায়ার সার্ভিসের অয়্যার হাউজ ইনস্পেক্টর লুৎফর রহমান খাঁন জানান, খোলামেলাভাবে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল বা গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সম্প্রতি মণিরামপুর উপজেলাব্যাপী পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতাদের একটি তালিকা করা হয়েছে। খুব দ্রুতই অভিযান চালিয়ে আইন অমান্যকারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কবীর হোসেন জানান, দাহ্য জাতীয় পদার্থ বিক্রির সুনিদিষ্ট সরকারি বিধিমালা রয়েছে। যত্রতত্র বিক্রির কোন সুযোগ নেই। এ ধরণের কর্মকান্ডে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান উপজেলা প্রশাসনের এ শীর্ষ কর্মকর্তা।