মণিরামপুরে আখ চাষিদের মুখে হাসি

0

 

রাজগঞ্জ (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোরের মণিরামপুরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে আখের ফলন গত বারের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে আখের ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষকেরা ভালো দামও পাচ্ছেন। আখের সাথে সাথী ফসল তো আছেই। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে আখ চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে গত মৌসুমের চেয়ে এবার ১৬ হেক্টর জমিতে আখ চাষ কম হয়েছে।
মণিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে বৃহত্তর এ উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে এবার ৬টি ইউনিয়নে ৫৬ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। যা গত মৌসুমে ছিল ৭২ হেক্টর জমিতে। মূলত বেলে মাটি ও বেলে-দোআশ মাটি আখ চাষের জন্য বেশ উপযুক্ত। সাত থেকে আট মাসের মধ্যে আখের ফলন পাওয়া যায়। এক মৌসুমের আখ উৎপাদনে দুই মৌসুমের ধান চাষের সময় লাগে। তারপরও সাথী ফসল হওয়ায় সার্বিকভাবে আখ চাষে কৃষকেরা বেশ লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলার আখ চাষিরা জানান, আখের সঙ্গে এ যাবতীয় ফসল চাষ করে তারা অনেক বেশি লাভবান হচ্ছেন। এছাড়া সাথী ফসল হিসাবে ডাল জাতীয় ফসল চাষে জমির উর্বরতা শক্তি অনেকাংশে বেড়ে যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে আখ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও এ সকল ফসল থেকে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যায়। সেই সাথে পেঁয়াজ রসুনের পাতায় তীব্র ঝাঁজ থাকায় সাথী ফসল হিসেবে আখের মধ্যে চাষ করলে ক্ষেতে পোকামাকড়ের উপদ্রব থাকে না বলে জানান আখ চাষিরা।
এ ব্যাপারে হরিদাসকাটি ইউনিয়নের আখ চাষি অখিল কুমার জানান, গতবার তিনি এক একর জমিতে আখ চাষ করে ছিলেন। কিন্তুু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় বেশ ক্ষতির সম্মূখিন হয়েছিলেন। তবে চলতি মৌসুমে তিনি আড়াই হেক্টর জমিতে আখ চাষ করেছেন। তার খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। এ পর্যন্ত তিনি আখ বিক্রি করেছেন ৪লাখ ৭০হাজার টাকা। তিনি গত মৌসুমের লোকসান কাটিয়ে চলতি মৌসুমে প্রায় ৯লাখ টাকার আখ বিক্রির আশা করছেন তিনি। এছাড়া অন্যান্য ফসল তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে আখ চাষ করে বেশ লাভবান হবেন বলে জানান এ আখ চাষি।
উপজেলার উপসহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা তবিবুর রহমান জানান, উপজেলার হরিদাসকাটি, খেদাপাড়া, রোহিতা, শ্যামকুড়, ভোজগাতি ও দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ৫৬ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। প্রতি বিঘা আখ চাষে খরচ হয় কমপক্ষে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে আখের ফলন বাম্পার ফলন পেয়েছে চাষিরা। এছাড়া হাট-বাজারে আখের ব্যাপক চাহিদা থাকায় দামও ভালো পাচ্ছেন আখ চাষিরা। সঙ্গে সাথী ফসল তো আছেই। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে আখ চাষিরা বেশ লাভবান হবেন বলে মনে করেন এ উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা।