ডেঙ্গু বাড়ছে সর্বত্র

0

 

রাজধানীসহ প্রায় সারাদেশে এডিস মশার প্রজনন ও বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিচ্ছে ডেঙ্গু। প্রতিদিন হাসপাতালে রোগী বাড়ছে। সংবাদপত্রের খবরে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দুই সিটি করপোরেশনকে যে তথ্য সরবরাহ করছে, তা দায়সারা। বেশির ভাগ তথ্যে রোগীর ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর ভুল থাকে।
ফলে, রোগীর ঠিকানা অনুসারে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে দুই সিটি করপোরেশন বিপাকে পড়ছে। ভুল ও অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে রাজধানীতে ডেঙ্গুর হটস্পট, রোগীর বাড়ির আশপাশে লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং করা যাচ্ছে না বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, স্থানীয় খবরে জানা গেছে, ডেঙ্গু শুধু ঢাকা নয়, যশোর, খুলনাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত্যুও ঘটছে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রায় প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে।
প্রায় প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। রোগীর সংখ্যা বিচারে বছরভেদে কমবেশি হয়। তবে, প্রায় প্রতিবছরই দেখা যায়, আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। চলতি বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা অনেক আগেই সতর্ক করেছিলেন। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিক দায়িত্বের বিষয়টিও অনেকবার মনে করিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। আমরা জানি, ডাবের খোসা, পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যাগ, ক্যানসহ অনেক পাত্র এখানে-সেখানে ফেলে দেওয়া হয়। পরিত্যক্ত এসব পাত্রে পানি জমে থাকার ফলে ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী মশা সহজেই বংশ বিস্তার করতে পারে। এ ছাড়া সারাদেশে অনেক বাড়িতে এখন শখের বশে বাগান করা হয়। অনেকে টবে ফুলগাছ লাগিয়ে থাকে। এসব পাত্রে পানি জমে থাকলে সেখানেও এডিস মশা বংশ বিস্তার করতে পারে।
ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী মশা একটি দৃশ্যমান শক্তি, যাকে মোকাবেলা করা অসম্ভব নয়। ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশার মাধ্যমে আর এটির প্রজনন নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সিটিতে সিটি করপোরেশন ও জেলায় পৌরসভার দায়িত্ব রাস্তাঘাট, উন্মুক্ত স্থান, সরকারি স্থাপনা, বাস টার্মিনালগুলোতে এডিস মশার প্রজনন বন্ধ ও নিয়ন্ত্রণ করা। সে জন্য সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে হবে। তবে, নগরবাসীরও দায়িত্ব রয়েছে। আবার এই প্রক্রিয়ায় জনগণকে সম্পৃক্ত করার জন্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সামাজিক সংগঠনগুলোকে উদ্বুদ্ধ করে এ কাজ করানো যেতে পারে। বাড়ি ও আঙিনায় এডিস এদিন মশার প্রজনন নষ্ট করতে তারা মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন।