বরফ সংকটে শরণখোলার সাগর জেলেরা

0

 

শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা ॥ বরফ সংকটে সাগরে যেতে পারছেনা বাগেরহাটের শরণখোলার ইলিশ জেলেরা। বিদ্যুৎ সংকটে পর্যাপ্ত বরফ উৎপাদন করতে না পারায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বরফের অভাবে দুইদিনে ট্রলার মালিকদের প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ নষ্ট হয়ে গেছে । দীর্ঘ ৬৫ দিন অবরোধ শেষে সাগরে মাছ ধরার এ মোক্ষম সময় বরফ সংকট দেখা দেয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের দেড় সহাশ্রাধিক জেলে ।
শরণখোলার জেলেপল্লীগুলোতে তিন শতাধিক ফিশিং ট্রলার রয়েছে তার মধ্যে অর্ধেক ট্রলারে বরফ সরবরাহ করতে পারলেও বাকিগুলো ঘাটে বসে লোকশান গুণছে। মেসার্স আট ভাই ফিশের মালিক আনোয়ার হেসেন জানান, বরফ না পাওয়ায় তার দুটি ট্রলার ঘাটে বসে আছে।
মৎস্য আরৎদার মো. কবির হোসেন জানান, তার ৬ টি ট্রলারের মধ্যে তিনটি সাগরে মাছ ধরছে আর তিনটি বরফ সংগ্রহ করতে না পেরে ঘাটে বসে আছে।
মৎস্য ব্যাবসায়ী সোলায়মান হোসেন জানান, তার ’এফবি শাহি মদিনা’ নামের ট্রলারে থাকা প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছ মাছে প্রয়োজনীয় বরফ দিতে না পারায় তা নষ্ট হয়ে গেছে। বরফের অভাবে আরও প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছ নষ্ট হয়েছে অন্যান্য ট্রলারের। বরফকল মালিক বাবুল দাস জানান, সারাদিনে মোট দুই তিন ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে এত অল্প সময়ে চাহিদা মত বরফ তৈরি করা যায় না।
শরণখোলা উপজেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন জানান, সাগরে মাছ ধরার জন্য একটি ট্রলার প্রস্তুত করতে ৫/৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বরফের অভাবে শ্রমিকরা ঘাটে বসে অলস সময় কাটাচ্ছে । বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘ মেয়াদি হলে এ বছর জেলেদের ইলিশের ব্যবসা শিকেয় উঠবে। পল্লীবিদ্যুতের শরণখোলা উপজেলা শাখার এজিএম আশিক মাহমুদ জানান, পিক আওয়ারে এখানের বিদ্যুতের চাহিদা ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট। কিন্তু সেখানে পাওয়া যাচ্ছে তিন মেগাওয়াট। ফলে উৎপাদন কেন্দ্রিক নানা সমস্য হচ্ছে।