চৌগাছার পশুহাট ক্রেতা বিক্রেতার সরব উপস্থিতি

0

 

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যশোরের চৌগাছার পশুহাট জমজমাট। ঈদের বাকি এখনও প্রায় ১০ দিন। কিন্তু হাটে ক্রেতা বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এ যেন মিলনমেলা বসেছে। পশুহাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পশু বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ই মহাখুশি।
পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডে চৌগাছা-মহেশপুর সড়কে অত্যান্ত মনোরম পরিবেশে অবস্থিত এ অঞ্চলের বড় পশুহাট। সপ্তাহে দুই দিন বুধ ও রোববার হাট বসে। বছরের অন্য সময়ে হাটে পশু যাই উঠু না কেন কুরবানি এলে পশুহাট ক্রেতা বিক্রেতায় একাকার হয়ে যায়। অন্য বছরের মত এবছরও হাটে বেশ আগে ভাগেই পশু আসতে শুরু করেছে। তবে এখনও সেভাবে কেনাবেচা শুরু হয়নি। ঈদের আগে আর যে কয়টি হাট আছে সেই হাটে সন্তোষজনক বেচাকেনা হবে বলে জানান হাট সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার দুপুরে চৌগাছার পশুহাটে সরেজমিন দেখা যায়, বিশাল মাঠ জুড়ে শুধুই গরু ছাগল। যে দিকে চোখ যায় সেদিকেই দেখা মেলে বিশাল বিশাল আকৃতির গরু। খুব সকাল থেকেই গরু বিক্রেতারা গরু বিক্রির জন্য হাজির হন হাটে। পশুহাটের পুরো জায়গা মেহগনি গাছের ছায়া যেন পরিবেশকে আরো মনোমুগ্ধ ও শান্তিপ্রিয় করে তুলেছে। দিনের পুরো সময় জুড়ে ছায়াঘেরা মাঠে গরু বিক্রি করতে ও কিনতে আসা সকলেই বেশ শান্তিতে কেনাবেচা করতে পেরেছেন। তবে এখনও সেভাবে বেচাকেনা শুরু না হওয়ায় গরু বিক্রেতারা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার গরু ব্যবসায়ী বখতিয়ার রহমান বলেন, প্রতি বছর কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে গ্রামাঞ্চল থেকে গরু কিনে চৌগাছা হাটে বিক্রি করি। এই হাটে গরু বিক্রি করে যে স্বাচ্ছন্দবোধ করি তা অন্য হাটে তা সম্ভব হয়না। অন্য বছরগুলোতে ঈদের বেশ আগে ভাগেই বেচাকেনা শুরু হলেও এ বছর এখনও শুরু হয়নি। ক্রেতারা পশু দেখে দাম বলছে তবে অনেক কম। আমি গ্রাম থেকে ১টি গরু ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় কিনেছি। হাটে নিয়ে আসার পর ক্রেতারা ওই গরুর দাম বলছে ১লাখ ৪০ থেকে দেড় লাখ টাকা। বারবাজারের গরু ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান বলেন, এক জোড়া গরু বিক্রির জন্য এসেছি, আড়াই লাখ টাকা দাম দিচ্ছি ক্রেতারা ২ লাখ বলছে, এখনও বিক্রি করেনি। যশোর সদরের বারীনগর রসুলপুর গ্রামের হাফিজুর রহমান বলেন, এ বছর গরু পালনকারীদের নিকট থেকে চড়া দামে গরু কিনতে হয়েছে। যে দামে গরু কিনেছি বাজারে এসে তার চেয়ে অনেক কম দাম বলছে ক্রেতারা। কুরবানির গরু কিনতে আসা পৌর সদরের রমজান আলী, বাকপাড়ার শরিফুল ইসলাম, থানাপাড়ার সুলতান মাহমুদ বলেন, বাজারে যে সব গরু আসছে তার বেশির ভাগই হচ্ছে ব্যাপারির গরু। তারা গ্রাম থেকে গরু কিনে অধিক দামে বিক্রির চেষ্টা করছেন। যে গরুর দাম ৮০ হাজার টাকা বিক্রেতা তার দাম বলছেন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে দেখা হয়েছে। তবে এখনো কেনা হয়নি। সামনে এখনও বেশ কয়েকটি হাট আছে দেখা যাক কি হয়!
এদিকে বাজারে দেশি জাতের গরুর পাশাপাশি জার্সি জাতের বহু গরুর আগমন ঘটেছে। হরেক রং আর সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এসব গরু দেখতে অনেকেই ভিড় করছেন। এঁড়ে গরুর পাশাপাশি হাটে প্রচুর পরিমাণে হালের বলদও দেখা গেছে। পশুহাটে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ক্রেতা বিক্রেতা সকলেই বেশ খুশি বলে অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
চৌগাছা পৌরসভার মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল বলেন, পৌরসভার সার্বিক তত্বাবধানে পশুহাট পরিচালিত হয়। এখানে আগত সকল ক্রেতা ও বিক্রেতার সুবিধা অসুবিধা ও সর্বিক নিরাপত্তার জন্য একাধিক স্বেচ্ছাসেবক হাটে কাজ করেন। যেখানেই কোন সমস্যা হোক দ্রুতই সেটি সমাধান করা হয়। আমাদের সার্বিক প্রচেষ্টায় চৌগাছার পশুহাট এ অঞ্চলের মানুষের কাছে একটি প্রিয় হাটে রূপ নিয়েছে।