লাঠিপেটা সমাধানের পথ নয়

0

মানুষ যখন দ্রব্যমূল্যের আগুনে পুড়ছে, তখন সেই আগুনে ঘি ঢালছেন সরকারের কিছু মন্ত্রী, এমপি নেতা। মূল্য বৃদ্ধিকারী ব্যবসায়ীদের যখন শক্ত হাতে দমন করা দরকার তখন মন্ত্রী এমপিদের বক্তব্য তাদের উৎসাহ যোগাচ্ছে। অপরদিকে, ব্যবসায়ীদের পক্ষে মন্ত্রী, এমপিদের অবস্থানের কারণে পুলিশও তাদের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। তারা জনগণের পক্ষে কথা বলা রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা-কর্মীদের লাঠিপেটা করছে। তাদের সহযোগিতায় দা-লাঠি নিয়ে হামলা চালাচ্ছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ। তাদের ভাবখানা এমন যে, মূল্য কমালে সরকার পতন হয়ে যাবে। গতকাল প্রকাশিত দৈনিক লোকসমাজসহ কয়েকটি পত্রিকার খবরে এমন প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে। একটি খবরের শিরোনাম ছিল ‘তেলের দাম কিছুটা না বাড়লে কেউ আমদানি করবে না : কৃষিমন্ত্রী’। তিনি তাঁর বক্তব্যে নানাভাবে যুক্তি দিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন মূল্য বৃদ্ধি না করলে বাজারে তেলই পাওয়া যাবে না। দু’দিন আগে বলেছিলেন মানুষের আয় ও ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে, সামান্য মূল্য বৃদ্ধি সমস্যা নয়। এ রকম আরও কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আসছে, যা ব্যবসায়ীদের মূল্য বৃদ্ধিতে উৎসাহ যোগাচ্ছে।
অপরদিকে, দেশের প্রায় সব সংবাদ মাধ্যমে খবর ছিল দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশে হামলা, ভাঙচুর ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। খবর ও ছবিতে দেখা যায়, কোথাও পুলিশ একক, কোথাওবা ছাত্রলীগ, যুবলীগ যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ছবি দিয়ে অনেকেই লিখেছেন পুলিশ জনগণের দুর্ভোগ বৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের স্বজনরা কি সব রেশনেই চলে ? বাজারে কি কেউ যায় না ? ইত্যকার অনেক কথা লিখেছেন তারা। তারা পুলিশকে জনগণের কষ্ট অনুধাবন করার অনুরোধ জানিয়েছেন। ছাত্রলীগ, যুবলীগ সম্পর্কে যা লিখেছে তা আলোচনার যোগ্য নয়।
আমরা মনে করি, এসব জনগণের ক্ষোভের ছিঁটেফোটা মাত্র। নির্বিঘেœ কথা বলার সুযোগ পেলে তারা কত কী বলবে তা সময়ই বলে দেবে। আমরা মন্ত্রী, এমপি, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ এবং মূল্যরোধের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে হামলাকারী সকলকে জনগণের অবস্থা জানার অনুরোধ জানাবো। আমরা জানি, জনগণ ভালো নেই। করোনা ও দ্রব্যমূল্য নাকাল অবস্থায় দারিদ্রের হার দ্বিগুণ বেড়েছে। এখন এর সংখ্যা ৪৩ শতাংশ হয়েছে। দিন দিন কর্মসংস্থান কমছে। দ্রব্যমূল্যের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বেকারত্ব। অনেকে লিখছেন, বলছেন, দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। অভাবজনিত অপরাধ বাড়ছে। মানুষ অসহিষ্ণু হয়ে যাচ্ছে। সব মিলে দেয়ালে পিঠ ঠেকা অবস্থা বিরাজ করছে। সময়টা মোটেই সুখকর নয়। এই পরিস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারি নির্যাতন-নিপীড়ন ঠিক নয়। অতীত ইতিহাসে অনেক নজির লেখা আছে। আমরা মনে করি, এসব পড়া ও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। আশা করবো, সংশ্লিষ্টরা তা পাঠ ও অনুধাবন করে জনগণের কষ্ট লাঘবে ভূমিকা রাখবেন। জনগণ কষ্ট পায়, ক্ষুব্ধ হয় এমন বক্তব্য ও কাজ থেকে দায়িত্বশীলরা বিরত থাকবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।