নরেন্দ্রপুরে ভাটা শ্রমিক নারীকে এক মাস আগে হত্যা করেন স্বামী, আটকের পর স্বীকারোক্তি

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদরের নরেন্দ্রপুরে ইট ভাটা শ্রমিক ফাহিমা বেগমকে এক মাস আগে তার স্বামী হত্যা করেছেন। স্ত্রীর পরপুরুষ আসক্ত নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয় বলে স্বীকারো্িক্ত দিয়েছেন স্বামী। নিহতের স্বামী জাহাঙ্গীর মোড়লকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে স্ত্রী হত্যার বিষয়ে এমনই তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত বৃহস্পতিবার রাতে সাতক্ষীরার তালা এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার ফাহিমার মরদেহ নরেন্দ্রপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। আটক জাহাঙ্গীর মোড়ল তালা উপজেলার সাতপাখিয়া গ্রামের দাউদ মোড়লের ছেলে। পেশায় তিনিও ইট ভাটা শ্রমিক। তারা স্বামী-স্ত্রী এক সাথে যশোর সদরের নরেন্দ্রপুর গ্রামের দফাদার ব্রিকস নাম্ েএকটি ইট ভাটায় কাজ করতেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাহাঙ্গীর মোড়লের কাছ থেকে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে জাহাঙ্গীর মোড়ল তালা উপজেলার চরগ্রাম এলাকার মৃত আনছার আলী শেখের মেয়ে ফাহিমাকে বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ের নাম মরিয়ম (১৮) ও ছোটমেয়ের নাম মুশফিকা (১১)। জাহাঙ্গীর ও ফাহিমা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইট ভাটায় শ্রমিকের কাজ করে থাকেন। কিন্তু ভাটায় কাজ করতে গিয়ে স্বামীর শারীরিক দুর্বলতার কারণে পরপুরুষে আসক্ত হয়ে পড়েন ফাহিমা। একবার একজন শ্রমিক সর্দারের সাথে ফাহিমাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন জাহাঙ্গীর। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে যায়। কিছুদিন আগে বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে গিয়ে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, তাদের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। খারাপ পথে চলতে নেই। সেখানে বাড়িতেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় যশোরে কাজ করার উদ্দেশ্যে জাহাঙ্গীর ও ফাহিমা তালা থেকে ইজিবাইকে করে রওনা হন। চুকনগরে এসে তারা ইজিবাইক থেকে নেমে বাসে ওঠেন। কিন্তু বাসটি মণিরামপুরের চিনেটোলায় আসার পর খারাপ হয়ে যাওয়ায় তারা সেখান থেকে ইজিবাইকে করে রওনা হন। রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুরে এসে পৌঁছান। এরপর তারা হেটে যাবার সময় নরেন্দ্রপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে পৌঁছালে একটি বাঁশের লাঠি পেয়ে পেছন থেকে আচমকা ফাহিমার মাথায় আঘাত করেন জাহাঙ্গীর। সাথে সাথে মাহিমা মাটিতে পড়ে যান। তার কোনো সাড়াশব্দও ছিলো না। তখন ওড়না দিয়ে বেঁধে ফাহিমাকে নিয়ে স্কুলের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে ফেলে দেন জাহাঙ্গীর। এর আগে পরনের বোরখা খুলে নেওয়া হয়। যা রাস্তার কোনো স্থানে ফেলে দেন জাহাঙ্গীর। এ ঘটনার পর জাহাঙ্গীর সেখান থেকে পালিয়ে পিরোজপুরে চলে যান। দিনদশেক সেখানে থাকার পর তালায় ফিরে আসেন।
পিবিআইয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, গত বৃহস্পতিবার ফাহিমার লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে নিশ্চিত হন যে, গত ১৫ ডিসেম্বর ফাহিমা নরেন্দ্রপুরে আসেন। তার সাথে স্বামী জাহাঙ্গীরও ছিলেন। সন্দেহ হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার রাতে তালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরকে আটক করেন তারা। আটকের পর জাহাঙ্গীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম শেখ বোন ফাহিমা হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে যশোর কোতয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পিবিআই। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের এসআই গোলাম আলী। শুক্রবার তিনি ওই মামলায় জাহাঙ্গীরকে আটক দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহাদী হাসানের আদালতে জাহাঙ্গীর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।