সংসদ সদস্যের সিল স্বাক্ষর জাল করে মাদ্রাসার কমিটি, যশোরে আ.লীগ সভাপতির মামলা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের সিল ও স্বাক্ষর জাল করে যশোর উপশহর আলিম মাদ্রাসার এডহক কমিটি অনুমোদনের জন্যে আবেদনের অভিযোগে ৪ ব্যক্তির বিরুদ্ধে গত সোমবার দুপুরে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপশহর আলিম মাদ্রাসার বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম মিলন মামলাটি করেছেন। আসামিরা হলেন, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কাশিপুর গ্রামের মৃত জাহাবক্সের ছেলে বর্তমানে যশোর শহরের পূর্ব বারান্দী মোল্লাপাড়া আমতলা মোড় এলাকার জনৈক গোলাম মোস্তফার বাড়ির ভাড়াটিয়া ও মাদ্রসার সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ জাকারিয়া হোসেন, উপশহরস্থ ১৪ নম্বর ভবনের ৮ম তলার ৮/সিডি রজনীগন্ধার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ষাটবাড়িয়া গ্রামের মোশারেফ হোসেনের ছেলে বর্তমানে যশোর সদর উপজেলার বাহাদুরপুরের বাসিন্দা ও মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের প্রভাষক আব্দুল ওহাব এবং চাঁদপাড়া গ্রামের মৃত সোলায়মানের ছেলে ও মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী শিক্ষক মফিজুর রহমান।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম মিলন জানান, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে উপশহর আলিম মাদ্রমার এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়ন প্রসঙ্গে একটি মনগড়া সুপারিশমালা তৈরি করেন। ওই সুপারিশমালায় সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের জাল সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে উপশহর সি-ব্লকের মৃৃৃৃত মোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে শওকত হোসেনকে সভাপতিসহ ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি এডহক কমিটির তালিকা ২০২০ সালের ১০ আগস্ট বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়। তবে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ওই কমিটির অনুমোদন দেয়নি। এরই মধ্যে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সাময়িক বরখাস্ত থাকার কারণে জৈষ্ঠ্য হিসেবে আরবি বিভাগের প্রভাষক মো. নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব অর্পণ করে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর। তিনি দায়িত্ব পালনকালে এবং মূল অধ্যক্ষ না থাকায় শিক্ষার অবনতি হওয়ায় এক পর্যায়ে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের ডিও লেটারে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড গত ১৮ আগস্ট তাকে (মো. শহিদুল ইসলাম মিলন) সভাপতি হিসেবে মনোনয়নসহ এডহক কমিটির অনুমোদন দেয়। তিনি আরো বলেন, গত ১১ নভেম্বর উচ্চ আদালত থেকে তারা বর্তমান এডহক কমিটির কার্যক্রমের ওপর একটি স্থগিতাদেশ হাতে পান। এরপর উচ্চ আদালত থেকে কাগজপত্রের নকল তুলে জানতে পারেন, সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের সিল ও স্বাক্ষর জাল করে আসামিরা তাদের মনগড়া এডহক কমিটি গঠন করে অনুমোদনের আবেদন করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় মামলা করেছেন।