ডিজেল-কেরোসিন ও গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ নতুন করে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে জনজীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। শুক্রবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে খেলাফত মসলিসের ঢাকা মহানগর আয়োজিত এক কর্মী সমাবেশে দলের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক এ দাবি জানান। মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, ‘হঠাৎ করে দেশে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটার প্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের যখন নাভিশ্বাস উঠেছে, সেই সময়ে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম হঠাৎ করে ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি করে জনগণের ওপর জুলুম করা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে পণ্য পরিবহন খরচ বাড়বে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য আরও বাড়বে। বাস ভাড়া বৃদ্ধির ফলে যাতায়াত খরচ বাড়বে। কৃষি ও সেচসহ জ্বালানি তেলের সংশ্লিষ্ট সকল সেবা খাতে মূল্যবৃদ্ধির মারাত্মক প্রভাব পড়বে। এতে করে জনগণের ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করবে। তাই জনগণের স্বার্থে অবিলম্বে ডিজেল-কেরাসিন ও জ্বালানি গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশের চলমান সংকট দ্রুত নিরসন করতে না পারলে দেশ, জাতি নিপতিত হবে। ইসলামের সুমহান আদর্শ সকলের কাছে তুলে ধরতে হবে। দেশ খেলাফতের আদলে চললে জমিনে শান্তি নেমে আসবে।’ প্রধান বক্তা ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, ‘হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করে জনজীবনকে দুর্বিসহ করে তোলা হয়েছে। নৈতিক অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করেছে। দেশ ও দেশের জনগণের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা সে ষড়যন্ত্রের অংশ। এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘খেলাফত মজলিস কোনোরকম চরমপন্থায় বিশ্বাস করে না। খেলাফত মজলিস একটি আদর্শবাদী সংগঠন হিসেবে ধারাবাহিক কর্মসূচি নিয়ে দেশ ও জনগণের স্বার্থে মাঠে কাজ করছে।’ ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি প্রফেসর ডাক্তার রিফাত মালিকের সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি তাওহীদুল ইসলাম তুহিন ও উত্তরের সেক্রেটারি মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকারের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আজীজুল হক। আরও বক্তব্য রাখেন— নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্মমহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য প্রভাষক মুহাম্মদ আবদুল করিম, ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ মনির হোসাইন প্রমুখ।