আপনাদের দোয়াই আমাদের কামনা

0

আজ ৩০ অক্টোবর। দৈনিক লোকসমাজের জন্মদিন। মহাকালের যাত্রাপথে আরও একটি বছর পেরিয়ে এলো দৈনিকটি। এক-দুই করে ২৫ পেরিয়ে ২৬ বছরে পদার্পণ করেছে আজ। ফেলে আসা ২৫ বছরে পত্রিকাটি অর্জন করেছে পাঠকসমাজের বিশ্বাস, ভালোবাসা, আস্থা। যার সমন্বয়ে লোকসমাজ আজ দক্ষিণ-পশ্চিম জনপদের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিকে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক রোষানলে সরকারি তালিকায় অবস্থান যেখানেই রাখা হোক না কেন পাঠক জানে সত্যটা কী। আমরা পাঠকের এই বিশ্বাস ভালোবাসা, আস্থায় আপ্লুত, কৃতজ্ঞ। আমরা আজ অভিনন্দন জানাই, ফুলেল শুভেচ্ছা জানাই তাদের। জন্মদিনের আনন্দ ভাগাভাগিতে লোকসমাজ পরিবারের পক্ষ থকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সকল বিজ্ঞাপনদাতা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, শুভাকাক্সক্ষী এবং বিপণনে নিয়োজিত এজেন্ট ও হকারকে। শুভেচ্ছা, অভিনন্দন, ভালোবাসা সবই রইল পত্রিকায় কর্মরত সকল পর্যায়ের সহকর্মীকে।
আমরা জানি, আপনারা অবগত আছেন, আমাদের চলার পথ কখনই মসৃণ ছিল না। সুস্থ সুন্দর স্বাভাবিক পরিবেশে হেসে খেলে লোকসমাজ পঁচিশ বছর পার করেনি। উচ্চারণে ২৫ যতটা ছোট তার চেয়ে হাজার গুণ বড় কষ্টাকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। সে বাধা এখনও চলমান। আমরা জানি না আর কতদিন বা কতকাল লোকসমাজকে পাড়ি দিতে হবে বন্ধু পথ। দেশপ্রেম বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা, মানুষের মৌলিক অধিকার এবং ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকারে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই শুরু হয় প্রতিরোধের চেষ্টা। দিনে দিনে যা হয়েছে চীনের প্রাচীরসম। আমাদের বিশ্বাস, আপনাদের নিশ্চয় স্মরণ আছে ১৯৯৬-এ ভয়ঙ্কর এক আওয়ামী দুঃশাসনের মানুষ যখন দিশাহারা, মৃত্যুভয়ে সারাক্ষণ তটস্থ, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, ন্যায়-বিচার হুমকির মুখে, সার্বভৌমত্ব প্রশ্নবিদ্ধ ঠিক তখনি দৈনিক লোকসমাজের আত্মপ্রকাশ ঘটে। মজলুম জনতার নেতা, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব গণতন্ত্রের অতন্ত্র প্রহরী খ্যাত সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম মানুষের পক্ষে রুখে দাঁড়াতে দৈনিক লোকসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। ব্যবসা কিম্বা ব্যক্তি রাজনীতি নয়, দেশ ও জাতির জন্য সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ঘোষণা করেই তিনি পত্রিকাটি প্রকাশ করেন। শুরু থেকেই লোকসমাজ তার দায়িত্ব পালন করে একদিকে গণমানুষের জনপ্রিয়তা অর্জন, অন্যদিকে, দুঃশাসকের যন্ত্রণা ও ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সময়ের ব্যবধানে ‘শত্রু’তে পরিণত হয় লোকসমাজ ও প্রকাশক তরিকুল ইসলাম। সরকারের সংশ্লিষ্টরা অর্থনৈতিক অবরোধ করে পত্রিকা বন্ধের চেষ্ট্ াচালান। শুরুতেই তারা কোনো কারণ ছাড়াই ৯০৬ দিন বিজ্ঞাপন ছাপার অধিকার কেড়ে নেন। এ সময় আপনারা পাঠক ও সুহৃদ সমাজ বাণিজ্যিক সহায়তায় এগিয়ে এসে ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেন। এ ব্যর্থতার চরম মূল্য আদায়ে দুঃশাসক ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বয়ং তরিকুল ইসলামের ওপর। প্রথমে তাঁকে নানা প্রলোভন ও চাপের মাধ্যমে আপোষের চেষ্টা করে। এরপর শুরু হয় নজিরবিহীন অধ্যায়। যশোরের ইতিহাসের জঘন্যতম উদীচী হত্যাকাণ্ডে হতাহতদের রক্ষা ও বিচার দাবিতে সর্বাধিক ভূমিকা রাখার পরও উদীচী হত্যা মামলায় তাঁকে আসামি করে। দেশজুড়ে গণমানুষের প্রতিরোধে বিনা বিচারে ফাঁসি দেবার সে চেষ্টা ব্যর্থ হলে সাহসী সাংবাদিক আরএম সাইফুল আলম মুকুল ও শামছুর রহমান কেবল হত্যা মামলায় জড়িত করার চেষ্টা চালান। গণপ্রতিরোধে এ চেষ্টাও থমকে যায়। পরে আদালতেই তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন। এরপর ওয়ান ইলেভেনের ইতিহাস আরও নির্মম। পুরো পরিবার অবৈধ সরকারের রোষানলের শিকার হন। একটি শিশু ছাড়া পরিবারের সবাই আসামি হন ডজনখানেক মামলায়। মিথ্যাচার আর অপপ্রচারে জর্জরিত করা হয় তাদের। এবারও এখানে আদালতে নির্দোষ ঘোষিত হন সবাই। এরপরও থেমে থাকেনি লোকসমাজবিরোধী ষড়যন্ত্র। থামেনি তরিকুল ইসলাম পবিবার বিরোধী কর্মকাণ্ড। কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের রাজা, উন্নয়নের কারিগর, পাঁচবারের মন্ত্রী হবার পরও তাঁর বাড়িতে দফায় দফায় বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ মামলা নেয়নি, তাই বিচারও মেলেনি। তবে, আমরা কৃতজ্ঞ আপনাদের প্রতি। সকল ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে আপনারা ছিলেন আমাদের পাশে। ছিলেন তরিকুল ইসলামের সাথে। আপনারা আজও আছেন তরিকুল ইসলাম পরিবারের পাশে। আমরা বিশ্বাস করি, সুখে-দুঃখে আপনারা থাকবেন আরও দৃঢ়ভাবে। আমরাও থাকবো আপনাদের সাথে ইনশা আল্লাহ।
আজ আমাদের প্রাণপুরুষ আমাদের মাঝে নেই। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর প্রিয় বান্দাকে নিয়ে গেছেন চিরতরে। তাঁর অনুপস্থিতিতে আমাদের পালন করতে হচ্ছে নতুন জন্মদিন। এদিনে, বাদআছর প্রেস ক্লাব যশোরে আমরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজন করেছি দোয়া মাহফিল। আসুন, সেখানে সবাই মিলে দোয়া করি আল্লাহ যেন মজলুম জনতার নেতা তরিকুল ইসলামকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন। সুস্থ রাখেন লোকসমাজ পরিবারের সকলকে।