জাপানি নারীর কাছে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি সাবেক স্বামীর

লোকসমাজ ডেস্ক॥ দুই কন্যাশিশুর মা জাপানি নারী নাকানো এরিকোর বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন তার সাবেক স্বামী ইমরান শরীফ। বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ এনে সাবেক স্ত্রীর কাছে এই নোটিশ পাঠান তিনি। ওই নারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন। নোটিশ পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে ওই ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে মামলা করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি ইমরান তার দুই মেয়ে জেসমিন ও লাইলাকে নিয়ে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। পরে দুই মেয়েকে জিম্মায় চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন দুই শিশুর মা জাপানি নাগরিক এরিকো। পরে গত ১৯ আগস্ট সাবেক স্বামীর জিম্মায় থাকা দুই শিশু সন্তানকে ৩১ আগস্ট হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসাথে তাদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন আদালত। এরপর দুই শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ এনে তাদের মা পৃথক মামলা করেন। গত ২২ আগস্ট শিশুদের উদ্ধার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি। এরপর তাদের তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছিল। পরে গত ৩১ আগস্ট সেখান থেকে দুই শিশুকে গুলশানস্থ বাসায় একোথে ১৫ দিন বসবাস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসাথে ঢাকার সমাজ সেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক পদের একজনকে বিষয়টি তদারকির নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ডিএমপি কমিশনারকে তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়। জানা যায়, জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকো এবং বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক ইমরান শরীফের ১৩ বছরের সংসারে বিরোধের জেরে ১৮ জানুয়ারি বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য জাপানি আদালতে মামলা করেন এরিকো। এরপর সন্তানদের নিজের জিম্মায় রাখতে টোকিওর পারিবারিক আদালতে পৃথক একটি মামলা করেন এরিকো। টোকিওর আদালত ৩১ মে এরিকোর অনুকূলে মেয়ে দুটিকে হস্তান্তরের আদেশ দেন। এদিকে, মেয়ে দুটির বাংলাদেশী পাসপোর্ট বানিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি দুবাই হয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন বাবা ইমরান শরীফ। দেশে ফিরে সন্তানদের নিজের কাছে রাখতে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। ঢাকার আদালত তার অনুকূলে আদেশ দেন। এ ছাড়া সন্তান দুটিকে ঢাকায় কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন তিনি। এ অবস্থায় ১৮ জুলাই এরিকো শ্রীলঙ্কা হয়ে বাংলাদেশে আসেন। এরপর বাংলাদেশের হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তিনি।

ভাগ