চৌগাছার বেলেমাঠে প্রাক বলুহ মেলা

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছা পৌরসভার বেলেমাঠ গ্রামে একটি দরগাহকে ঘিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক দিনের মেলা। প্রতি বছর বলুহ মেলা শুরুর এক সপ্তাহ আগে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় শিশু, কিশোর, নারীদের উপস্থিতি ছিল সব থেকে বেশি। দিনব্যাপী চলা এই মেলাতে ভালো বেচাকেনা হওয়ায় ব্যবসারীরা বেজায় খুশি। বলুহ মেলার এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই মেলাকে স্থানীয়রা প্রাক বলুহ মেলা বলে আখ্যায়িত করেছেন। কোনো ঘোষণা বা মাইকিং ছিল না, মেলার কোনো কমিটি নেই সবাই প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মেলায় গিয়েছেন আনন্দ করেছেন। চৌগাছা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জিওয়লগাড়ী বেলেমাঠ গ্রাম। গ্রামটির মাঝামাঝি স্থানে একটি দরগাহর অবস্থান। এই দরগাহকে ঘিরে প্রতি বাংলা সনের ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবারের আগের মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয় মেলা। গতকাল এই মেলা উপলক্ষে দরগাহর পাশে খালি মাঠে সকাল থেকেই হাজির হতে থাকেন বিভিন্ন ধরণের ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে শিশু খেলনা, প্রসাধনী আর মিষ্টি মিঠাইয়ের ব্যাপক সমারোহ ঘটে। মঙ্গলবার পড়ন্ত বিকেলে মেলা চত্বরে যেয়ে দেখা যায়, স্থানীয়রা ছাড়াও দূর দূরান্ত থেকে সব বয়সের মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি। বিভিন্ন জেলা হতে ব্যবসায়ীরাও মেলাতে আসতে ভুল করেননি। সারা দিনে ব্যবসায়ী যা বিক্রি করেছেন তাতে তারা খুশি বলে জানিয়েছেন অকোপটে। এখন অপেক্ষায় আছেন বলুহর মূল মেলাতে অংশ নেওয়ার জন্যে।
কথা হয় চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারি থেকে আসা প্রসাধনী ব্যবসায়ী আলম হোসেনর সাথে। তিনি বলেন, গত দুই বছর কোনো মেলা না হওয়ায় বেশ কষ্টে দিন পার করতে হয়েছে। এ বছর বলুহ মেলা হবে সেই আশায় আগে ভাগেই চলে এসেছি। বলুহর মূল মেলা শুরুর আগে বেলেমাঠ গ্রামে এই মেলায় বেচাকেনা করে এক সপ্তাহ পর হাজরাখানা গ্রামে বলুহ মেলায় তারা অংশ নেবেন বলে জানান। একই কথা বলেন, নওগাঁ জেলার সদর উপজেলার শিশু খেলনা ব্যবসায়ী সুরুজ মিয়া, আলমগীর হোসেন, সুধাংশু বসু, বগুড়া জেলার দুপচাচিয়া উপজেলার শরিফুল ইসলাম। এছাড়া স্থানীয় মিষ্টি ব্যবসায়ী হরেন নাথ, চটপটি ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদিন বলেন প্রতি বছর এখানে মালামাল বিক্রির জন্য আসি। এ বছর সকাল থেকেই মানুষের উপস্থিতি ও বেচাকেনা চোখে পড়ার মতোই। মেলায় ঘুরতে আসা উপজেলা বাঘারদাড়ি গ্রামের শিশু শিক্ষার্থী তামান্না খাতুন বলেন, বড় ভাইয়ার সাথে মেলাতে এসেছি, খুব ভাল লাগছে। খেলান কিনেছি, চটপটি খেয়েছি এখন ঘুরে ঘুরে সব কিছু দেখছি। স্থানীয় বাসিন্দা আনিছুর রহমান, শিল্পি বেগম জানান, খুব ছোটবেলা থেকেই আমি এই মেলা দেখে আসছি, কারও কোনো দাওয়াত দেওয়া লাগেনা সবাই নিজের থেকে মেলাতে আসে।পৌরসভার সাবেক সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর স্থানীয় বাসিন্দা সাবিনা খাতুন বলেন, এই মেলা হচ্ছে আমাদের প্রাণের মেলা। বছরের পর বছর ধরে মেলা হলেও করোনার কারণে গত দুই বছর হয়নি, এবছর মেলা হওয়ায় সকলেই খুশি।
দরগায় আগত বলুহ ভক্ত পাবনা জেলার সদর উপজেলার রিংকু বলেন, আমার বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই বলুহ মেলাতে আসি, মাজার ও দরগাহ য় রাত যাপন করি। বলুর ভক্ত তাই ভালোবাসার টানেই প্রতি বছর চলে আসি। দরগাহর সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা হামজার আলী বলেন, বাবা দাদাদের কাছে শুনেছি, পীর বলুহ দেওয়ান (র.) সময় পেলেই বেলেমাঠ গ্রামের বর্তমান মেলার উত্তর পাশে নিরিবিলি স্থানটিতে এসে বসতেন। তার বসা স্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে দরগাহ। ছোট বেলায় দেখেছি, স্থানীয় বাসিন্দা মরহুম লুৎফর ফকির এই দরগাহ দেখাশুনা করতেন। তার মৃত্যু হলে দরগাহর পাশেই দাফন করা হয়। এরপর থেকে মূলত আমি দরগাহ দেখাশুনা করছি। দরগাহকে ঘিরে প্রতি বছর এই দিনে একদিনের মেলা বসে, যেখানে সব বয়সের মানুষের আগমন ঘটে। মেলা পরিচালনার জন্য নেই কোনো কমিটি এমনকি দেখা শুনার জন্যও কোনো লোক নেই, তারপরও দিনটি এলে নিজের থেকেই সকলে আসেন ঘুরাফেরা করেন পরে চলে যান।