শার্শার সাতমাইল পশুহাটটি বন্ধ হওয়ায় হতাশ পশু ব্যবসায়ী ও খামার মালিকরা

নাভারণ (যশোর) সংবাদদাতা ॥ করোনায় যশোরের শার্শা উপজেলার সাতমাইলে সর্ববৃহৎ পশুহাটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করছেন এলাকার পশু ব্যবসায়ী ও খামার মালিকরা। পবিত্র ঈদ-উদ-আযহার আগের এই সময় হাটটি বন্ধ রাখায় কোরবানির পশু ক্রেতারাও পড়েছেন মহাবিপাকে।
বেনাপোলের পুটখালী গ্রামের নাছির উদ্দিনের খামারটি শার্শা উপজেলার সবচেয়ে বড় খামার। যেখানে গরু,ছাগল, মহিষ ও ভেড়া পোষা হয়। নাছির উদ্দিন জানান, খামারে ৪০০ গরু আছে। কোরবানির উপযোগি করে গড়ে তোলা ১৬২টি গরু । এসব গরু অন্যবছর ঈদের আগেই বিক্রি হয়ে যায়। করোনায় এবার হাট বন্ধ। বেচাবিক্রি নেই। নিজেও গরু বাইরে নিতে পারছি না। বাইরের ব্যাপারীও আসছে না। গরু বেচতে না পারলে ৮ বছর ধরে পরিশ্রম করে গড়ে তোলা খামার নষ্ট হয়ে যাবে।
অপরদিকে করোনার কারণে হাট বন্ধ থাকায় এখন লগ্নির ৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা কীভাবে পাবেন এই চিন্তায় দিশেহারা সাতমাইল পশুহাটের ইজারাদার। এই হাটের ইজারাদার আব্দুল খালেক খতিব ধাবক বলেন, শনিবার ও মঙ্গলবার সপ্তাহে দুই দিন এই হাট বসে। করোনার থাবায় এখন এই পশু হাটটি পশুশূন্য। প্রতি হাটের খরচ খরচা ৫০ হাজার টাকা। প্রতি হাটে সাড়ে ছয় লাখ টাকা আদায় হলে বছর শেষে মূল টাকা উঠবে। অথচ ২৩ জুন থেকে করোনার কারণে প্রশাসন হাট বন্ধ করে দিয়েছে।
হাট কমিটির সভাপতি ইয়াকুব হোসেন বিশ্বাস বলেন কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝিনাইদহ, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ অন্তত ২০টি জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপারীরা আসেন এ হাটে। কন্তু এবার হাট বন্ধ তাই তারা খোঁজখবর নিচ্ছেন ঈদের আগে কবে নাগাদ আবার শুরু হবে বেচাকেনা।
বেনাপোলের নমাজগ্রামের মুহিত হোসেন জানান ‘বেনাপোলের ডন’ নামের গরুকে নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তার পালন করা ২৫মন ওজনের ষাঁড়টি ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারলে অন্তত পুঁজি বাঁচবে। করোনায় হাট বন্ধ। কোথায় কিভাবে বিক্রি হবে ষাঁড়টি তা নিয়ে পড়েছেন মহা বিপাকে।
ঈদ-উল-আযহার আগের হাটগুলোই সবচেয়ে বেশি জমজমাট হয়। দেশের বিভিন্ন কোরবানির পশুহাটের গরু, ছাগল এই হাট থেকে ব্যাপারীরা নিয়ে যায়। গরুর খামারি সুজন বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে গরু ব্যবসা করছি। সারা বছর খামারে গরু হৃষ্টপুষ্ট করে তৈরি করি কুরবানির হাটে বেচাবিক্রির জন্যে। ঈদের আগে এই হাট যদি খোলা না হয় তবে আমাদের পথে বসতে হবে।
শার্শা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাসুমা আখতার বলেন, এ বছর এ উপজেলায় ১০২৫ জন খামারি ৪ হাজার ২৮০টি ষাঁড়, ৬০২টি বলদ, ২ হাজার ৯৪৫টি ছাগলসহ মোট ৭ হাজার ২২৫টি গরু ছাগল কোরবানির জন্য প্রস্তÍত করেছেন। এই উৎপাদন উপজেলার চাহিদার দ্বিগুণ। ‘ করোনায় হাট বন্ধ। সরকারিভাবে হাট খোলার সিদ্ধান্ত হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা যাতে হাটে আসে সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলীফ রেজা বলেন, দেশব্যাপী কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। ঈদের আগে কোরবানির পশুহাট কীভাবে চলবে এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত প্রতিপালন করবো মাত্র। তবে এই সময়ে অনলাইনে পশু কেনাবেচার জন্য জেলা থেকে একটা পেজ খোলা হয়েছে। খামারিরা উপজেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তারা খামারিদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ওই ওয়েব পেজে লোড করে দেবে।

 

ভাগ