খুন ধর্ষণে আস্থা হারাচ্ছে মানুষ

0

খুনের পর খুনের ঘটনা ঘটছে সারাদেশে। পাল্লা দিয়ে চলছে ধর্ষণের ঘটনা। খুন, আর ধর্ষণে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এ মুহুর্তে শীর্ষে আছে খুনের ঘটনায়। গত বুধবার ২৪ ঘন্টায় খুনের ঘটনা ঘটে। এর মাঝে কলারোয়ায় ঘটে ফোর মার্ডার। এক পরিবারের পাঁচ সদস্যের চার জনকে হত্যা করা হয় জবাই করে। পরদিন যশোরের মনিরামপুর ও সদর সীমান্তে সন্ধ্যা রাতে দু’জনকে হত্যা করা হয় জবাই করে। পরদিন খাজুরায় চিত্রা নদীতে পাওয়া যায় একজনের লাশ। ওইদিন এ অঞ্চলে আরও ৩টি লাশ পাওয়া যায় পৃথক জেলায়। এরপরও থেকে থেমে নেই খুনের ঘটনা। তবে তুলনামূলক ধর্ষণের ঘটনা যশোরাঞ্চলে কম, তারপরও সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহে ঘটেছে ৩টি ঘটনা। খুন, ধর্ষণের প্রতিটি ঘটনাতেই নৃশংস বর্বরতার ছাপ রয়েছে স্পষ্টত। দেখে শুনে মানুষ বলছে, আইন-শৃঙ্খলার ভয়ঙ্কর অবনতি ঘটেছে। মানুষ আত্মবিশ্বাস ও আস্থা হারাচ্ছে : আমরা মনে করি, এ অবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে এবটি দৈনিক পত্রিকায় দেশের অপরাধ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, পারিবারিক সহিংসতা ও সংঘবদ্ধ অপরাধে হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে করোনাকালে নৃশংসতার ঘটনা বেড়েছে। চোর, ছিনতাইকারী, ডাকাতসহ পেশাদার অপরাধীরাও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ধর্ষণ-নিপীড়ন নিয়ে আন্দোলনের আগে-পরে গত এক মাসে সারা দেশে শতাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ ছাড়া ছিনতাই, চুরি, বিদেশিদের প্রতারণা, ফেসবুকে প্রতারণা, জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ধর্ষণের সঙ্গে পারিবারিক সহিংসতা, হত্যার মতো নিষ্ঠুর ঘটনা বাড়ছে। অপরাধ, সমাজ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় ঘরবন্দি থাকার পর আর্থিকসহ জীবনের বিভিন্ন ধরনের হতাশা-সংকটে মানুষের হিংস্রতা বাড়ছে। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অনেকে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। সংঘবদ্ধ অপরাধীরাও সুযোগ খুঁজছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হতাশা থেকে রাগ ও ধৈর্য হারানোর ঘটনা ঘটছে এখন। ধৈর্যচ্যুতির কারণে অল্পতেই সহিংস হয়ে উঠছে মানুষ। অবশ্য, পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, অতীতের হিসাবে দেশে প্রতি মাসে গড়ে শতাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। দিনে কমপে চারটি। সেই হিসাবে এখন হত্যাকাণ্ডসহ নৃশংস অপরাধ বাড়েনি। তবে এটা তো মানতে হবে যে সমাজের কিছু মানুষ যেন দিন দিন অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে বলা যায়, মানবিক মূল্যবোধের অবয় চরমে পৌঁছেছে। কিছু মানুষের মধ্যে নৈতিকতা বলতে কিছু নেই। দেশে মূল্যবোধের অবয় এক দিনে হয়নি। সামাজিক অসহিষ্ণুতাও অপরাধপ্রবণতার জন্য দায়ী। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সহজ কোনো পথ খোলা আছে বলে মনে হয় না। যখনই কোনো অপরাধের ঘটনা ঘটে, তখন প্রচলিত আইনের সহযোগিতা নেওয়া হয়। অপরাধ যেই করুক, তার কঠোর শাস্তিই কাম্য। কিন্তু প্রচলিত আইনে বিচার করলেই সমাজ থেকে সব অপরাধ দূর হয়ে যাবে এমন আশা করা যায় না।
হঠাৎ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটল কেন? কেন খুনখারাবির লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না? বন্ধ হচ্ছে না নৃশংস অমানবিকতা? ধারণা করা যেতে পারে, এক শ্রেণির মানুষ পুলিশ প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, মানবিক মূল্যবোধ কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছে না। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীগুলোকে আরো সক্রিয় ও তৎপর হতে হবে। অপরাধীদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের রাজনৈতিক লেজুড়মুক্ত হয়ে সাহসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।