যশোর লকডাউন

0

আকরামুজ্জামান ॥ করোনা পরিস্থিতি যশোরে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় এ জেলায় ১৪ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে দুই জন চিকিৎসকসহ চার জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছে। এ নিয়ে যশোরে এ পর্যন্ত মোট ২৯ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলো। এছাড়া যশোরের পাশ্ববর্তী জেলা ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইলে আরও ১৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছে। শনিবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টারে ৬৬ টি নমুনা পরীক্ষা করে এসব পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় আজ সোমবার সকাল ছয়টা থেকে যশোর জেলা অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত লকডাউন বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শফিউল আরিফ। রোববার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টার থেকে সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা পরীার যে ফল সরবরাহ করা হয়, তাতে যশোরের ১৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত করা হয়। গেল ২৪ ঘণ্টার রিপোর্টে যশোরসহ এই অঞ্চলের আরও তিনটি জেলার মোট ২৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা যশোরের। মাত্র ৪২ জনের শরীর থেকে সংগৃহিত নমুনা পরীা করে তার মধ্যে ১৪টি পজেটিভ বলে শনাক্ত হয়। এছাড়া ঝিনাইদহের আটটি, নড়াইলের তিনটি এবং মাগুরার দুটি নমুনা পজেটিভ রেজাল্ট দেয়।
যশোরের নতুন করে আক্রান্ত ১৪ জনের মধ্যে দুইজন চিকিৎসক ও চারজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৮ জন, ঝিকরগাছা উপজেলায় ১ জন, শার্শা উপজেলায় ২ জন কেশবপুর উপজেলায় ২ জন ও চৌগাছা উপজেলায় ২ জন রয়েছে। এছাড়া মাগুরা জেলার কোটায় বাঘারপাড়া উপজেলায় একজন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।  যশোরে আক্রান্ত দুইজন চিকিৎসকের মধ্যে একজন যশোর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও অপরজন চৌগাছা উপজেলার একজন মেডিকেল অফিসার রয়েছে। এছাড়া ৪ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে এসএসিএমও (স্যাকমো) ১ জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ২ জন ও ইপিআই টেকনোলজিস্ট ১ জন রয়েছে। করোনা পজেটিভের রেজাল্ট পাওয়ার সাথে সাথেই যশোর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আক্রান্তদের এলাকা ও বাড়ি চিহ্নিত করা হয় এবং সেখানে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য লকডাউন নিশ্চিত করা হয়।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টারের সহকারী পরিচালক প্রফেসর ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদ জানান, নমুনা পরীার রেজাল্ট নিশ্চিতের পর রোববার ভোরে আইইডিসিআর-সহ সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনের কাছে মেইলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গেল ২৪ ঘণ্টায় বৃহত্তর যশোরের ৪ জেলার সন্দেহভাজন ৬৬ রোগীর নমুনা পরীা করা হয়। এর মধ্যে যশোর জেলার ৪২ নমুনার মধ্যে ১৪টি, ঝিনাইদহের ১৫ নমুনার মধ্যে আটটি, নড়াইলের চার নমুনার মধ্যে তিনটি এবং মাগুরা জেলার পাঁচ নমুনার মধ্যে দুটির পজেটিভ রেজাল্ট আসে। বিকেলে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, আক্রান্তদের এলাকা চিহ্নিত করে তাদের বাড়ি ও আশপাশের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। এছাড়া যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদেরকে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট এলাকার স্বাস্থ্য বিভাগের তত্তাবধাণে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এদিকে যশোরে করোনা পরিস্থিতির এ ভয়বাহ খবরের পর যশোর জেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে রোববার দুপুরে যশোর সার্কিট হাউজে জরুরি বৈঠক বসে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শফিউল আরিফের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন যশোরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, করোনা সংক্রান্ত সেনা তৎপরতায় যশোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লে. কর্নেল নিয়ামুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন, জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দীলিপকুমার রায়সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
সভার সূত্রে জানা গেছে, অবনতিশীল পরিস্থিতিতে যশোরকে দ্রুত লকডাউনের ঘোষণার পক্ষে মত দেন সভায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সমন্বয় কমিটির অন্যান্য সদস্যরা। সবার মতামতের পর যশোরকে লকডাউনের ঘোষণার জন্য খুলনা বিভাগীয় কমিশননারের মতামতের জন্য অপেক্ষার জন্য সকলকে আহবান জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ।
সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাস মোহাম্মাদ শফিউল আরিফ বলেন, করোনা পরিস্থিতির এ অবনতিশীল অবস্থার প্রেক্ষিতে যশোরকে লকডাউনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ সোমবার ভোর ছয়টা থেকে কার্যকর হবে। লকডাউনের আওতায় থাকবে গোটা যশোর জেলা। জেলা প্রশাসক বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অথচ কোনোভাবেই মানুষকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শৃঙ্খলার মধ্যে আনা যাচ্ছে না। সেই কারণে আরো কঠোর পদপে হিসেবে জেলাকে লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। তিনি বলেন, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত লকডাউন বলবৎ থাকবে। জররি সেবা যেমন অ্যাম্বুলেন্স, হাসপাতাল, ওষুধের দোকান, কাঁচাবাজার, নিত্যপণ্যের দোকান, কৃষি সংক্রান্ত বিষয়াদি যেমন সার, বীজ, কীটনাশকের দোকান, ফুয়েল স্টেশন প্রভৃতি লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে।