জীবননগরে গুলিতে যুবক হত্যা : বিজিবির দাবী বন্দুকযুদ্ধে নিহত

0

রিফাত রহমান, চুয়াডাঙ্গা॥ চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী নতুনপাড়া বিজিবির বিরুদ্ধে জসিমকে (৩৫) বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রাতে গুলি করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর বিজিবির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তীতে দাবী করা হয়েছে বন্দুকযুদ্ধে কুখ্যাত মাদক চোরাকারবারী নিহত হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রত্যক্ষদর্শী ইমাজ উদ্দিন নিহতের পরিবারের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, নতুনপাড়া বিজিবি ক্যাম্পে ওই ক্যাম্প ইনচার্জের নির্দেশ মতে প্রতিদিনই এলাকার চোরাকারবারীদের সন্ধ্যা ৬টা হতে রাত ১১টা পর্যন্ত বসে থাকতে হয়। গত রবিবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নতুনপাড়া বিজিবি সদস্য সিপাই মহিউদ্দিন ও ল্যান্স নায়েক শাহাব উদ্দিন নতুনপাড়ার মরহুম আব্দুল করিমের ছেলে জসিমকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে মারতে মারতে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়েও তাকে প্রচন্ড নির্যাতন করা হয়। ওই সময় অন্যান্যরা ক্যাম্পে গেলে তাদের চলে যেতে বলা হয়। এরপর রবিবার দিনগত রাত ৩টার দিকে একই ইউনিয়নের সদরপাড়ার খবিরের দুছেলে জিল্লুর রহমান ও ওয়াসিম, সের আলির ছেলে আমিরুল এবং হানিফের ছেলে মিলনকে বিজিবি সদস্যরা তাদের বাড়ি থেকে ডেকে নতুনপাড়ার মাঝামাঝি একটি মাঠে নিয়ে যায়। ওখানে ভারত সীমান্তের শুন্য রেখা থেকে ১ কিলোমিটার অভ্যন্তরে নিহত জসিমের লাশ পড়ে ছিলো। তাদেরকে দিয়েই লাশটি বিজিবির গাড়িতে ওঠানো হয়। মূলত তাকে বিজিবি হত্যা করে বন্দুকযুদ্ধ বলে চালিয়ে দিচ্ছে।
এদিকে ৫৮ ব্যাটালিয়নের পরিচালক কামরুল আহসান (নাম আছে স্বাক্ষর নেই) সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১০টা ৫৯ মিনিটে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তীতে জানান, নতুনপাড়া বিওপির একটি টহলদল মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে রবিবার (১৯ এপ্রিল) পৌনে ৭টার দিকে। তারা ৬৬ নম্বর প্রধান খুঁটির আনুমানিক ৫০ গজ অভ্যন্তরে নতুনপাড়া আমবাগানের মধ্য হতে ২ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিলসহ একই এলাকার মরহুম আব্দুল করিম মন্ডলের ছেলে জসিম উদ্দিনকে (৩৫) আটক করে। তাকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত ১টা ৫মিনিটে ভরভরিয়া মাঠ রহমানের আমবাগানের মধ্য থেকে ২টি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা ৩০০ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। এ সময় আটক জসিম উদ্দিনের সহযোগীরা তাকে ছিনিয়ে নেয়ার জন্য আচমকা টহলদলের উপর আক্রমণ ও গুলিবর্ষন করে। এতে টহল দলের ২ জন বিজিব সদস্য আহত হয়। আত্মরক্ষার্থে টহলদল পাল্টা গুলি করলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। সে সময় পলায়নরত আসামী কুখ্যাত মাদক চোরাকারবারী জসিম উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। ওই সময় ঘটনাস্থল থেকে ১টি ওয়্যার কার্টার, ৩টি কাঁচি, ১টি দা, ১টি ছোরা ও ১টি হাঁসুয়া উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে জীবননগর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে ৫৮ ব্যাটালিয়ন পরিচালক কামরুল আহসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে সোমবার বেলা ১ট পর্যন্ত যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।