মনিরুল ইসলাম মনি, শার্শা (যশোর) ॥ যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দ্বিতীয় দিনের মত দু দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে বন্ধ ছিল আমদানি-রফতানি। ফলে দু দেশের বন্দর এলাকায় হাজার হাজার পণ্যবোঝাই ট্রাক আটকা পড়ে আছে। বিশেষ করে উচ্চ পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ায় আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সদস্যরা বেনাপোল বন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্টের স্টাফদের কাগজপত্র নিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল থেকে আমদানি-রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল বুধবারও বিষয়টির কোন সমাধান হয়নি। তবে কাস্টমসের কর্মকর্তারা আমদানি-রফতানি চালু করতে ভারতীয় পেট্রাপোল বন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
ভারতীয় পেট্রাপোল বন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চন্দ্র জানান, পণ্য রফতানির জন্য কাগজপত্র নিয়ে পেট্রাপোল বন্দরে দিয়ে বেনাপোল কাস্টমস কার্গো শাখায় প্রবেশ করতে গেলে বিএসএফ’র বাধার মুখে পড়েন তাদের সদস্যরা। প্রত্যেক কর্মচারীকে বাধা দেয়ার কারণে তারা ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে প্রবেশ করতে পারেননি। যে কারণে মুহূর্তের মধ্যে ভারতের সাথে সবধরণের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বেনাপোল সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান স্বজন জানান, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সেদেশের সিএন্ডএফ স্টাফদের পেট্রাপোল বন্দরে ঢুকতে না দেয়ায় ভারতের সাথে আমাদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে। তবে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল বন্দরে কাজকর্ম স্বাভাবিক রয়েছে। দু দেশের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রীদের যাতায়াতও অব্যাহত আছে। অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি সমাধানের জন্য বুধবার দুপুরে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন, সহসভাপতি খায়রুজ্জামান মধু, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন শিমুল, এসোসিয়েশন নেতা নাসির উদ্দিন, আব্দুল লতিফসহ একটি প্রতিনিধি দল ভারতীয় কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনায় বসলেও কোন সমাধান হয়নি। বেনাপোল কাস্টমস’র সহকারী কমিশনার উত্তম চাকমা জানান, দু দেশের সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফরা যাতে দ্রুত বন্দর এলাকায় প্রবেশ করতে পারেন সে জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে সে দেশে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রামের সফরের কারণে সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারির ফলে বাংলাদেশ থেকে কোন সিএন্ডএফ কর্মচারীকে ভারতে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।





