আকরামুজ্জামান ॥ মাঘের বিদায়ের শেষ সময়ে এসে হঠাৎ আকাশের মুখভার। কোথাও কোথাও গুঁড়ি-গুঁড়ি বৃষ্টি। গোমড়ামুখো আকাশ আজ রবিবারও থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সাথে বৃষ্টি-বাতাসও থাকবে। তবে এ সময়ে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে। বৃষ্টি ভাবটা কেটে গেলেই দেখা মিলবে রোদ ঝলমলে পরিবেশ। আর তখন থেকেই প্রকৃতিতে হিমেল হাওয়া ও ফুলের সৌরভে বসন্তের আগমনী বার্তা দিতে থাকবে। শনিবার সন্ধ্যায় আবহাওয়া অফিস এমনই আভাস দেয়।
যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, লঘু চাপের কারণে যশোরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দু-এক জায়গায় হালকা বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যেকারণে গত দুদিন ধরে এ অঞ্চলে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ এং তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের এ স্বাভাবিক লঘুচাপটি এখন দক্ষিন বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে বলে আবহাওয়াবিদরা জানান। আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, শনিবার দিবাগত রাত থেকে এ অঞ্চলে রিমঝিম বৃষ্টি হতে পারে। এরপর রোববার ভোর থেকে তা এটি মাঝারি বৃষ্টিপাতে রূপ নিতে পারে। বৃষ্টির আগ পর্যন্ত কুয়াশার চাঁদরে প্রকৃতি ঢাকা পড়তে পারে। তিনি বলেন, রংপুরসহ দেশের কয়েকটি জেলায় মৃদ্যু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও যশোরসহ এ অঞ্চলে এর কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে মেঘ ও বৃষ্টির ভাব কেটে গেলেই দুই একদিন কনকনে ঠান্ডা পড়তে পারে। সাথে উত্তুরের হিমেল বাতাস ঠান্ডা কিছুটা বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে এ সময়ে ঠান্ডা অনুভূত হলেও তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানাগেছে, শনিবার যশোরে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি মৌসুমের স্বাভাবিক তাপমাত্রা। তবে উত্তুরের হিমেল হাওয়া ও সারাদিন সূর্যের দেখা না পাওয়ায় তাপমাত্রা বাড়লেও শীত অনুভূত হয়েছে বেশি। এদিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা ও শীতের প্রকোপের শঙ্কা যশোরাঞ্চলে কৃষকদের বেশ দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। কৃষি বিভাগের সূত্রে জানাগেছে, চলমান এ আবহাওয়ায় ধান ও সবজির জন্য হুমকি হিসেবে দেখা না গেলেও আলু চাষিদের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি আলু ক্ষেতের জন্য খুবই বিপদজনক। এ অবস্থায় আলু ক্ষেত লেটব্লাইট রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যশোর সদর উপজেলার নোঙরপুর মাঠের কৃষক আজগর আলী বলেন, চলতি মৌসুমে আলু চাষ করে আমরা বেশ বিপদে আছি। তিনি বলেন, আলু চাষের মাঝামাঝি সময়ে এসে পরপর দুটি শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়ি আমরা। মাত্রাতিরিক্ত শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে কিছু কিছু ক্ষেতে ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়। এতে আমাদের কীটনাশকসহ অন্যান্য বাড়তি খরচ হয়েছে। এখন যে আবহাওয়া চলছে তাতে আমরা আবারও ক্ষতির আশঙ্কা করছি। বৃষ্টি হলে নিশ্চিত ক্ষেতের আলু নষ্ট হবে বলে তিনি জানান। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সুষান্ত কুমার তরফদার বলেন, জেলায় চলতি মৌসুমে ১২০০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ করা হয়েছে। আর কয়েকদিন পর কৃষক এসব আলু ঘরে তুলবে কৃষক। তবে এই মুহূর্তে আমাদের ভয় বৃষ্টি নিয়ে। বৃষ্টি হলে ক্ষেতেই নষ্ট হবে এসব আলু। তিনি বলেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি দেখে আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আলু চাষিদের তাদের ক্ষেতের নালা কেটে রাখতে বলেছি। যাতে দ্রুত জমি থেকে পানি বের হয়ে যায়। তবে বৃষ্টি হলে আলু ক্ষেত বাদে সবজি, বোরোসহ অন্যান্য ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না বলে এ কৃষিবিদ দাবি করেন।





