লোকসমাজ ডেস্ক ॥ মাল্টায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের খারাপ ফলের পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটের প্রভাবকে দায়ী করেছেন দেশটির পরীক্ষকরা। গত বছরের মে-তে হওয়া সেকেন্ডারি এডুকেশন সার্টিফিকেট (এসইসি) পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩ হাজার ৮৮৫ শিক্ষার্থীর খাতা মূল্যায়নের বার্ষিক প্রতিবেদনে তারা কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে নজর দিতে অনুরোধ করেছেন বলে জানিয়েছে টাইমস অব মাল্টা। পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত দুই-তৃতীয়াংশই উচ্চতর ধাপে পড়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারলেও পরীক্ষায় খাতায় তাদের ভাষা বিশেষ করে বানান ভুল নিয়ে পরীক্ষকরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। “মাল্টায় এসইসিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে এবং ইন্টারনেটের প্রভাব থেকে দূরে থাকতে হবে; ফেইসবুকে ব্যবহৃত ভাষা পরীক্ষায় গ্রহণযোগ্য হবে না,” মন্তব্য করেছেন তারা।
পরীক্ষকদের প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুই হাজার ৪১৪ জনকে গ্রেড ১ থেকে গ্রেড ৫ এর মধ্যে নাম্বার দেয়া গেলেও ৮০০-র মতো শিক্ষার্থী এতই খারাপ ফল করেছে যে তাদের শ্রেণিবিভাগই করা সম্ভব হয়নি। ২০১৮ সালের পরীক্ষায়ও এমনটা দেখা গেছে। পরীক্ষার্থীদের অনেকেই কথ্য ভাষা ও লিখিত ভাষার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেনি, কেউ কেউ বাজে ভাষা ব্যবহার করেছে। অনেকে আবার মাল্টার ভাষার অক্ষরগুলোর সঙ্গে ইংরেজি ও ইতালীয় অক্ষরের তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে। সবচেয়ে বেশি ভুল করেছে প্রবন্ধ লেখার সময়। ফেইসবুকের কারণেই এমনটা হয়েছে বলে অভিযোগ পরীক্ষকদের। ব্যাকরণ অংশে কোনো শিক্ষার্থীই পূর্ণ নম্বর পায়নি জানিয়ে এ বিষয়টিতেই সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থী দুর্বল বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।
পরীক্ষার খাতায় ফেইসবুকের ভাষা!
বিদেশে কেন এতো বাংলাদেশী শ্রমিকের মৃত্যু হচ্ছে?
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ প্রবাসী শ্রমিকের লাশ দেশে ফেরার সংখ্যা বাড়ছে বাংলাদেশে। সরকারি হিসাবে গত এক দশকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করতে যাওয়া ২৭ হাজার ৬৬২ জন শ্রমিকের লাশ দেশে ফেরত এসেছে। ২০১৯ সালেও তিন হাজার ৬৫৮ জনের লাশ ফিরেছে দেশে, অর্থাৎ গত বছর গড়ে প্রতিদিন ১০ জনের বেশি প্রবাসী শ্রমিকের লাশ দেশে ফিরে এসেছে। বেশির ভাগের মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং স্বাভাবিক মৃত্যু বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মৃত্যুর বড় কারণ কী?
বাংলাদেশ থেকে প্রবাসে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে শ্রমিকের মৃত্যুর হারও প্রতিবছর বেড়েছে। ১৯৯৩ সালে মাত্র ৫৩ জন শ্রমিকের লাশ ফেরত এসেছিল প্রবাস থেকে, যে সংখ্যা ২০১৯ এ এসে হয়েছে তিন হাজার ৬৫৮ জন। সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংস্থা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড বলছে, এই হিসাব কেবল যেসব লাশ ফেরত আসে সেই সংখ্যা ধরে। এর বাইরে অনেক লাশ সংশ্লিষ্ট দেশে দাফন করা হয়, যার হিসাব সব সময় হালনাগাদ থাকে না। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপ-পরিচালক জাহিদ আনোয়ার জানিয়েছেন, ‘যেসব প্রবাসীর লাশ ফেরত আসে দেশে, তাদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে লাশের সাথে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে আসা ডেথ রিপোর্টে যা উল্লেখ থাকে, সেটিই জানা যায়। সেই হিসাবে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, স্বাভাবিক মৃত্যু এবং আত্মহত্যার কথা বেশি উল্লেখ থাকে। এর বাইরে কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিদগ্ধ হওয়া এবং অসুস্থতার কারণও উল্লেখ থাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে।’ ২০১৯ সালে দেশে ফেরা লাশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি এসেছে সৌদি আরব থেকে। নারী শ্রমিকসহ মোট ১১৯৮ জনের লাশ ফেরতে এসেছে দেশটি থেকে। সৌদি আরবে এই মুহূর্তে ২০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজ করেন। বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় অংশটি কাজ করেন সৌদি আরবে।
কেন হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক বেশি হয় শ্রমিকদের?
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া অধিকাংশ শ্রমিকের বয়স ২০ থেকে ৩৫-এর মধ্যে। অল্পবয়েসী কর্মক্ষম মানুষ কাজে যাবার পরে কেন শ্রমিকদের দ্রুত এবং আকস্মিক মৃত্যু ঘটছে? অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে এমন একটা প্রতিষ্ঠান, রামরু’র পরিচালক মেরিনা সুলতানা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক মারা যায়। সেখানে মূলত হৃদরোগ এবং কিডনি সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েন শ্রমিকেরা। কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, প্রথম প্রথম অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তাপমাত্রা সাথে খাপ খাওয়াতে পারে না। ‘মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যে তীব্র গরম, তাতে প্রচণ্ড পানি শূন্যতা তৈরি হয়। সে অবস্থায় পানি বেশি পানের পাশাপাশি আরো কী করতে হবে সেটা বুঝতে না পেরে অসুস্থ হয়ে যান অনেকে। সে অবস্থায় কাজ করতে থাকলে হয় সে আরো অসুস্থ হয়ে পড়বে, নতুবা কাজে মন দিতে পারবে না। উভয় ক্ষেত্রেই শারীরিক ক্ষতির সাথে মানসিক চাপ বাড়বে।’ ‘আর অভিবাসন ব্যয় অনেক বেশি হবার কারণে শ্রমিকেরা ওখানে গিয়ে একটা মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন। হয়তো ঋণ নিয়ে বিদেশে গেছেন, কিন্তু কাজটি হয়তো খুবই অল্প বেতনের। তখন দ্বিতীয় একটি কাজ বা পার্টটাইম খোঁজে তারা। ফলে অনেকেই ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করে পর্যাপ্ত ঘুমানোরও সুযোগ পান না, এতে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।’
মেরিনা সুলতানা বলছেন, সেই সাথে বৈধভাবে কাজের নিশ্চয়তা, দেশ থেকে যাবার সময় যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা তুলে আনার তাগিদ এবং আত্মীয়-পরিজনহীন থাকার পরিবেশ, এসব কিছু মিলিয়ে তাদের স্ট্রেস বা মানসিক অনেক বেশি থাকে। ‘এছাড়া বাংলাদেশের শ্রমিকেরা বেশিরভাগ দেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অদক্ষ বা স্বল্প দক্ষতা নিয়ে যাবার কারণে নিম্ন মজুরীর কাজ করতে বাধ্য হয়। যে কারণে সেই রোজগারের মধ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকে না বা তারা নিজেরাও সে খরচ করতে চায় না। যে কারণে দেখা যায়, হঠাৎ স্ট্রোক হলো বা হার্ট অ্যাটাক হলো।’ সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, মালয়েশিয়াতে ২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি শ্রমিক মারা গেছেন। এ ক্ষেত্রে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা গেছে, বেশির ভাগ শ্রমিক হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়ে মারা গেছেন।
বাংলাদেশে যাচাই হয় না মৃত্যুর কারণ
সিলেটের হবিগঞ্জের মারুফ সরকার সৌদি আরব গিয়েছিলেন ২০১৪ সালে। চার বছর পর মারুফের মৃত্যুর খবর তার একজন রুমমেট ফোনে হবিগঞ্জে তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন। এক মাস পরে তার লাশ ফেরে দেশে। মারুফের বোন সালমা আক্তার জানিয়েছেন, লাশের সাথে আসা রিপোর্টে লেখা ছিল স্বাভাবিক মৃত্যু, কিন্তু দাফন করার সময় পরিবারের সদস্যরা মারুফের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন।
স্থানীয়ভাবে এ নিয়ে আলোচনা হবার পর যাদের মাধ্যমে মারুফ বিদেশে গেছেন, তারা পরামর্শ দেয় বিষয়টি নিয়ে ‘ঝামেলা’ না করে মেনে নিতে। ‘আমার আরেক ভাইরে কম টাকায় সৌদি নিয়া দিব বলছে, এই জন্য আমরা আর আগাই নাই। আমরা খালি বলছিলাম লাশটা একবার পরীক্ষা করে দেখতে, কিন্তু কেউ শুনে নাই, মাটি দিয়া দিছে ভাইরে।’ বাংলাদেশে অভিবাসন খাত নিয়ে যারা কাজ করেন তারা বলছেন, প্রবাসী শ্রমিকদের মৃত্যু তদন্তে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলছিলেন, ‘লাশের গায়ে ডেথ সার্টিফিকেটে যা লেখা থাকে, তাই সবাই জানে এবং মেনে নেয়। কিন্তু বাংলাদেশেও যদি সেটি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হবার ব্যবস্থা থাকতো তাহলে স্বজনদের মনে কোনো সন্দেহ থাকতো না।’ শরিফুল হাসান বলছিলেন, শ্রমিকদের কাজের নিরাপদ পরিবেশ, তাদের স্বাস্থ্য এবং মৃত্যুর কারণ দেশে যাচাই না করলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে না।
সূত্র : বিবিসি
ইসি ও সরকার যা বলে তা তাদের মনের কথা নয় : খন্দকার মোশাররফ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বিএনপি অংশগ্রহণ করার কারণেই ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে। তিনি বলেন, এই সরকার এবং এই নির্বাচন কমিশন যা বলে তা তাদের মনের কথা নয়। তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের ভোট ২৯ তারিখ রাতে ডাকাতি হয়েছে সেটা সবাই জানেন। বিএনপি অংশগ্রহণ করার কারণেই এটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে। আমরা যেহেতু গণতন্ত্র বিশ্বাস করি, আমরা গণতন্ত্রের ধারাকে অব্যাহত রাখতে চাই সেই জন্য আমরা বারবার জনগণের কাছে যাচ্ছি। আর সরকার এবং নির্বাচন কমিশন তারা পক্ষপাতিত্ব করে, ডাকাতি করে, জোর করে, রেজাল্ট ছিনতাই করে একটি দলের পক্ষে দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও দোয়া মোনাজাত শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। খন্দকার মোশাররফ বলেন, জনগণ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরেও বিক্ষুব্ধ হয়েছে। এবারো শহরে যদি এধরনের ঘটনা ঘটে তবে জনগণ সেটা মেনে নেবে না। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি না কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। আমরা অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে কিন্তু আমরা আশা করি না তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে। তবু আমরা জনগণের কাছে থাকার জন্য জনগণের কাছে আমাদের বক্তব্য পৌঁছানোর জন্য এবং জনগণের কাছে প্রমাণ করার জন্য যে, এই আওয়ামী লীগ ও এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনোদিন নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না, জনগণ ভোট দিতে পারে না। ইভিএমের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মোশাররফ বলেন, প্রথম থেকেই আমরা ইভিএম বিষয়ে প্রতিবাদ করেছি। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের ইভিএম পদ্ধতির প্রয়োজন নেই। কারণ এদেশের মানুষ নিজের হাতে ভোট দিয়ে ভোট রাখতে পারে না, নিজের হাতে নিজের ভোট দিতে পারে না সেখানে যন্ত্রের মাধ্যমে ভোট দিয়ে কি উন্নয়ন করতে চাচ্ছে সেটা আমরা বুঝতে পারি না। এটা বুঝি, যন্ত্র দিয়ে এ ধরনের কারচুপি করা আরো সহজ। তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর জনগণ যদি কেন্দ্রে যেত তাহলে তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারতো না। সেই ভয়ে আগের রাতে তারা ভোট ডাকাতি করেছে। এবার আবার যদি দ্বিতীয় বার এরকম ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে সেই সাহস তারা পাচ্ছে না তাই তারা মেশিনের মাধ্যমে কারচুপি করার উদ্দেশ্য নিয়ে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট নিতে চাচ্ছেন। এদেশের মানুষ নিজের হাতে ভোট দিয়ে অভ্যস্ত। এদেশে ইভিএমের মতো কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। এদেশের মানুষ নিজের হাতে ভোট দিতে চায়, মেশিনের মাধ্যমে নয়।
ইভিএমের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আপত্তি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মোশাররফ বলেন, আমরা ইতিপূর্বে বহুবার জানিয়েছি এবং আমাদের নেতৃবৃন্দ স্ট্যাটমেন্ট দিয়েছে আমরা এই ইভিএম পদ্ধতি চাইনা এবং এর প্রতি আমাদের আস্থা নেই। তাই আমরা এখন মনে করি ইভিএম পদ্ধতি নয়, আমাদের দেশের মানুষ যেই পদ্ধতিতে অভ্যস্ত এবং সেই পদ্ধতি আমাদের দেশে প্রচলিত আছে সেই পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে হবে। তিনি বলেন, ইভিএম যেসব দেশে চেষ্টা করেছে, পরীক্ষা করেছে, সেইসব দেশেও কিন্তু ইভিএম বিতর্কিত এবং তারা এই ইভিএম পদ্ধতি বাতিল করে দিচ্ছে। এখানে শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই ইভিএম চালু করার চেষ্টা করছে। এটা আমরা মানি না। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সরকারের মন্ত্রীরা জোরগলায় বলছেন, এই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। আপনারা তাদের এই কথায় আশ্বস্ত কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মোশাররফ বলেন, আমার মোটেই আশ্বস্ত নই। আপনাদের মনে আছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দুই-দুইবার আমরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে যেখানে কথা দিয়েছিলেন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে ৩০ তারিখে জনগণের হাতে না গিয়ে ২৯ তারিখ রাতে ভোট ডাকাতি করা হয়েছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী যেটা করতে পারেননি বা করেননি এখন নির্বাচন কমিশন বা মন্ত্রীরা আশ্বস্ত করলে আমরা বিশ্বাস করব না। কারণ জনগণ তাদের বিশ্বাস করে না।
সরকারি দল থেকে বলা হচ্ছে আপনারা প্রতিবাদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন কিন্তু নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য মাঝপথ থেকে ফিরে আসেন। এই ধরনের কোনো সম্ভাবনা আছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, আমরা কখনোই নির্বাচনের মাঠ থেকে ফিরে আসেনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা সর্বশেষ পর্যন্ত মাঠে ছিলাম। আমরা দেখেছি আমাদের নেতাকর্মীদের ইতিপূর্বে হাজার হাজার মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের বাড়িতে থাকতে দেয়া হচ্ছে না, আমরা নির্বাচনে এজেন্ট দিতে পারছি না। তারপরও আমরা নির্বাচনের থেকেছি। জনগণ দেখেছে। জনগণ ভবিষ্যতে বিচার করবে। আমরা এবারো নির্বাচনের সর্বশেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবো। কিন্তু তারা যেটা বলছে এটা তাদের নিজস্ব দুর্বলতা থেকে বলছে। তারা নিজেরা এত অন্যায় করেছে যে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে, ভোটকে কেন্দ্র করে তারা এ সকল অগ্রিম কথাবার্তা বলে উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রসঙ্গে খন্দকার মোশাররফ বলেন, আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের একটি আইন সংশোধন করা হয়েছে। অতীতে এই আইনের মধ্যে ছিল সরকার প্রয়োজন মনে করলে বছরে একবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল বাড়াতে পারবে। কিন্তু এই সংশোধনীর মাধ্যমে যেটা করা হয়েছে সেটা হল, সরকার ইচ্ছা করলে একাধিকবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করতে পারবে। আমি মনে করি, ইতিমধ্যে গত ১০ বছরে প্রায় ৮-৯ বার যেভাবে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করে এদেশের মানুষের পকেট থেকে যেভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তা শুধুমাত্র এই বিদ্যুৎ সেক্টরে আওয়ামী লীগের যে সিন্ডিকেট আছে তাদের মুনাফার জন্য। তাদের পকেট ভারী করার জন্য জনগণকে শোষণ করছে, জনগণের পকেট থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আজকে এই আইনটি সংশোধন করার মানে হচ্ছে, সরকার বছরে একাধিকবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করে জনগণের পকেট থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে পারবে। এসময় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সকল সেক্টরে সকল পর্যায়ের একটি নৈরাজ্য ও অরাজকতা চলছে। আপনারা দেখছেন, এই আওয়ামী লীগ সরকার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কিভাবে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া করে দিয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আজকে এদেশের মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। দ্রব্যমূল্য আজকে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।
ঝিনাইদহে মাদকবিরোধী প্রচারণা সপ্তাহ
স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ ‘‘মাদককে রুখবো, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়বো’’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ঝিনাইদহে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদক বিরোধী প্রচারণা সপ্তাহ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের বঙ্গবন্ধু প্রেরণা ৭১ এ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। সেখান থেকে একটি র্যালি বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। র্যালি শেষে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আরিফ-উজ-জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রবিউল ইসলাম, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো, আজিজুল হক, অগ্রণীমুক্ত স্কাউট গ্রুপের সদস্য, কারারক্ষী, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা মাদকের কুফল ও প্রতিরোধে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা মূলক আলোচনা করেন।
২০১৯ সালে প্রযুক্তি দুনিয়ার যত অঘটন
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ আমরা এখন ২০২০ সালে। ২০১৯ সালে বিশ্বের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো অনেক উদ্ভাবনী পণ্য দিয়ে যেমন বাজিমাত করেছেন ঠিক তেমনি বেশ কিছু অঘটনেরও জন্ম দিয়েছে। ২০১৯ সালে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর অঘটনের কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো এই লেখায়।
১. অ্যাপলের ফেসটাইম অ্যাপের নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে সাইবার আক্রমণকারীরা ফেসটাইম কলে ব্যবহারকারীর কোনও ইন্টারঅ্যাকশান ছাড়াই কল করতে এবং কলদাতার প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হয়। এর মাধ্যমে গোপন নজরদারির দরজাও খুলে যায়।
২. এক প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, কয়েকটি নিম্নমানের এবং অখ্যাত ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এগুলোর মাধ্যমে হ্যাকাররা যেকোনও সময় ব্যবহারকারীদের তহবিল চুরি করতে পারে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এধরনের ২৬টি নিম্নমানের, অখ্যাত ক্রিপ্টোকারেন্সি খুঁজে পেয়েছেন।
৩. ওয়াইফাই ফার্মওয়্যার নিরাপত্তা ত্রুটির ফলে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, রাউটার, গেমিং ডিভাইস সাইবার আক্রমণের শিকার হয়। ডিভাইসের তালিকায় পিএস-ফোর, এক্সবক্স ওয়ান, স্যামসাং ক্রোমবুকস ও মাইক্রোসফ্ট সারফেস ডিভাইস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
৪. এ বছর দু’বার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসগুলোতে প্রি-ইন্সটল ম্যালওয়্যার পাওয়া যায়। প্রথমত, জানুয়ারিতে গবেষকরা একটি অ্যালকাটেল অ্যাপের মধ্যে ম্যালওয়্যার খুঁজে পায় যখন অ্যালকাটেল স্মার্টফোনে আগে ইন্সটল করা ছিল। দ্বিতীয়ত, জুনে যখন জার্মানির সাইবার-সুরক্ষা সংস্থাগুলো চারটি চীনা স্মার্টফোন মডেলের ওপর অনুসন্ধান করেছিল।
৫. হ্যাকাররা ই-মেইল সরবরাহকারী ভিএফ ই-মেলের মার্কিন সার্ভারগুলো মুছে দেয়।
৬. আসুসের সাপ্লাই-চেইনে হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটে। হ্যাকাররা ব্যবহারকারীদের সিস্টেমে ম্যালওয়্যার স্থাপন করতে আসুস লাইভ আপডেট ইউটিলিটি হ্যাক করে। এই ঘটনায় এক মিলিয়নেরও বেশি পিসি আক্রমণের শিকার হয়।
৭. ফেসবুক কয়েক মিলিয়ন ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর প্লেইন টেক্সট পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করার কথা স্বীকার করে। এছাড়া কোম্পানিটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের প্লেইন টেক্সট পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করার কথাও স্বীকার করে।
৮. ভারতের একটি সংস্থা কয়েক মিলিয়ন গর্ভবতী নারীর স্পর্শকাতর তথ্য বিবরণ ভূলবশত অনলাইনে প্রকাশ করে ফেলে। এই ঘটনায় ১২ দশমিক ৫ মিলিয়নেরও বেশি মেডিকেল রেকর্ড উন্মুক্ত হয়ে যায়। তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পরে সার্ভার থেকে রেকর্ড সরানো হয়।
৯. মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে মাইক্রোসফ্ট একটি নিরাপত্তা ত্রুটি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল যা পরে ব্লুকিপ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। পরে আগস্টে দুটি নতুন ব্লুকিপের মতো নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশ পায়।
১০. প্রধান ব্রাউজারগুলো নিরাপদ ব্রাউজিং নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়। মোবাইল ক্রোম, সাফারি ও ফায়ারফক্স এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ফিশিংয়ের সতর্কতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছিল।
১১. হ্যাকাররা বিশ্বের বৃহৎ ১০টি টেলিকম কোম্পানিতে সাইবার আক্রমণ চালায়। সাইবারিসনের গবেষকরা জানায় একটি রাষ্ট্র-সমর্থিত গোয়েন্দা অভিযানে কমপক্ষে ১০টি বৈশ্বিক টেলকো সংস্থা এ আক্রমণের শিকার হয়।
১২. অ্যাপলের এডাব্লুডিএল প্রোটোকলে নিরাপত্তা ত্রুটি দেখা দেয়। মে মাসে অ্যাপলের কিছু অংশের সমাধান করলেও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে বাকি ত্রুটিগুলো সারাতে অ্যাপলের কয়েকটি পরিষেবা নতুন করে তৈরির প্রয়োজন হয়েছিল।
১৩. ব্লুটুথ আইওএস ও মাইক্রোসফ্ট মোবাইল ডিভাইস ব্যবহারকারীদের ট্র্যাক করতে এবং সনাক্ত করতে পারে বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। উইন্ডোজ ১০, আইওএস এবং ম্যাকওএস মেশিনগুলোর ব্লুটুথ ডিভাইস ব্যবহারকারীদের ওপর নজর রাখতে পারত।
১৪. ইনস্টাগ্রাম তাদের বিজ্ঞাপন অংশীদার হাইপ-৩আর -এর সঙ্গে চুক্তি থেকে সরে আসে। কারণ ওই বিজ্ঞাপন অংশীদার ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ করত।
১৫. স্মার্ট টিভির গুপ্তচরবৃত্তির খবর প্রথমবারের মত নজরে আসে এ বছর। দুটি একাডেমিক গবেষণাপত্রে দেখা গেছে যে স্মার্ট টিভি ব্যবহারকারীদের টিভি দেখার অভ্যাসের তথ্য সংগ্রহ করছে।
১৬. ইউটিউব ক্রিয়েটরদের বিপুল পরিমাণ অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের শিকার হয়। অটো এবং গাড়ি কমিউনিটির ইউটিউব ক্রিয়েটরদের অ্যাকাউন্টগুলোই মূলত এই আক্রমণে শিকার হয়েছিল। ফলে হ্যাকারা এই ক্রিয়েটরদের গুগল এবং ইউটিউব অ্যাকাউন্ট দখল করে নেয়।
১৭. অ্যান্টিভাইরাস সফ্টওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাভাস্ট হ্যাকিংয়ের শিকার হয়। কোম্পানিটির হালনাগাদ সি-ক্লিনার অবমুক্তির ঠিক আগেই এই আক্রমণের শিকার হয়।
ফিলিস্তিনে হামাসের সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। প্রতিরোধের সক্ষমতা জোরদারের অংশ হিসেবে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। হামাসের একটি সূত্র জানিয়েছে, ভূমি থেকে সাগরে এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং সফলভাবে লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে।
হামাস ক্রমেই নিজের ক্ষেপণাস্ত্র বাড়াচ্ছে। বর্তমানে হামাসের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ইসরাইলের জন্য বড় ধরণের আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে। হামাস পাথর দিয়ে সংগ্রাম শুরু করলেও বর্তমানে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির অধিকারী। হামাসের প্রভাবশালী নেতা সোহেল আল হিন্দি সম্প্রতি বলেছেন, আমরা পাথর দিয়ে সংগ্রাম শুরু করেছি, এরপর মলোটোভ ককটেল ব্যবহার করেছি। বর্তমানে আমরা সামরিক ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি সাধন করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি বলেন, হামাসের নীতি স্পষ্ট। হামাস কোনো ভাবেই দখলদার ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবে না, ফিলিস্তিনিদের নিজ ভিটে-বাড়িতে ফেরার অধিকারের বিষয়ে ছাড় দেবে না, বায়তুল মুকাদ্দাসকে ছাড়বে না এবং ফিলিস্তিনি বন্দীদের ক্ষেত্রেও কোনো আপোষ করবে না। এগুলো হামাসের স্থায়ী নীতি। উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালে হামাস প্রতিষ্ঠিত হয়। সূত্র : পার্সটুডে।
মাগুরার অধিকাংশ প্রাথমিকেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করছে শিশুরা
মাগুরা সংবাদদাতা ॥ মাগুরার অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মিত হলেও সেগুলো প্রয়োজনের তুলনায় ছোট হওয়ায় সেখানে স্থান সংকুলান হচ্ছে না সব ছাত্রছাত্রীর। এজন্য নিরুপায় হয়ে পুরনো জরাজীর্ণ ভবনেই জীবনের ঝুঁকি ক্লাস করতে হচ্ছে শিশুশিক্ষার্থীদের। জায়গার অভাবে অনেক বিদ্যালয়ে টিনশেড ঘর করে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে ও বর্ষায় টিনশেডে ক্লাস করে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশুরা। জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মাগুরায় মোট ৫০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এগুলোর অধিকাংশতেই সরকারি ভবন রয়েছে। এছাড়াও চাহিদার ভিত্তিতে জরাজীর্ণ বা ব্যবহার অনুপযোগী এরকম প্রায় ২৫০টি বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য নাম পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে দুইশ’ স্কুলকে নতুন ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে কয়েকটি স্কুলে দেখা গেছে, সরকারি ভবন থাকলেও স্থান সংকুলান না হওয়ায় আদি ভবনেই ক্লাস চালাতে বাধ্য হচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। পুরনো ভবনের অধিকাংশই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সদর উপজেলার শ্রীকুন্ঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি ভবন থাকলেও তা ছাত্র-ছাত্রীদের স্থান সংকুলানের জন্য যথেষ্ট নয়। বাধ্য হয়েই তারা টিনশেড বিল্ডিংয়ে ক্লাস চালাচ্ছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আফরোজা খাতুন বলেন, ‘আমরা বাধ্য হয়ে টিনশেড ভবনে ক্লাস চালাচ্ছি। গরমে অতিষ্ঠ ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে খুবই বিপদে পড়তে হয়। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে।’ একই উপজেলার বজরুক শ্রীকুন্ডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী বিলকিস বানু বলেন, ‘স্কুলটি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সম্প্রতি সরকারি হয়েছে। কিন্তু আমাদের অবকাঠামোগত কোনও পরিবর্তন আসেনি। আমরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস নিচ্ছি। যখন-তখন ছাদ থেকে প্লাস্টার খসে পড়ছে। আমরা ছেলেমেয়েদের নিয়ে শঙ্কিত থাকি সব সময়।’
মাগুরা কৃষ্ণপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রমিম বলেন, ‘স্কুলে সরকারিভাবে একটি দ্বিতল ভবন থাকলেও ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যার অনুপাতে তা যথেষ্ট নয়। ফলে আমাদের পুরাতন টিনশেড ভবনেই ক্লাস নিতে হচ্ছে। একটু ঝড় হলেই তা নড়তে থাকে। আমরা সব সময় আতঙ্কিত থাকি শিশুদের নিয়ে। তাছাড়া এখানে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার কেন্দ্র রয়েছে। বাইরের স্কুল থেকেও অনেক শিশু পরীক্ষা দিতে আসে এখানে।’ এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কুমারেশ চন্দ্র গাছি বলেন, ‘পুরনো এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনগুলো সম্পর্কে আমরা নিয়মিত খোঁজখবর নিই। এর অনেকগুলোর মেরামত কাজ চলছে। অনেকগুলোর মেরামতের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এছাড়া আমরা প্রায় ২৫০ বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন চেয়েছি। যার অধিকাংশেরই ভবন বরাদ্দ হয়েছে।’ খুব শিগগিরই এসব ভবনের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গুজবের কারণে শেয়ার বাজারের বেহাল দশা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া পাঁচটার দিকে ঢাকা স্টক একচেঞ্জ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের বৈঠকে স্টক একচেঞ্জ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা আমার কাছে দাবি জানিয়েছেন- যেন বড় বড় কোম্পানি শেয়ার বাজারে আসে। আমি তাদের দাবির বিষয়ে সম্মতি জ্ঞাপন করে জানিয়েছি বড় বড় কোম্পানি শেয়ার বাজারে আসবে। তবে কবে থেকে সেসব কোম্পানি শেয়ার বাজারে যুক্ত হবে সে ব্যাপারে কথা দিতে পারিনি।’ আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘পুঁজিবাজার যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেজন্য এই রিউমারগুলো বন্ধ করার জন্য যে প্রচলিত আইন আছে, আইনটি কঠোরভাবে হস্তক্ষেপ হয়, সেটি করে দেব। সেটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করব।’ এত এজেন্সি আছে সরকারের, নিয়ন্ত্রক সংস্থা আছে, তাহলে তাদের কাজ কী সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এজেন্সিগুলো করবে তখনই, আইনটা যদি শক্তিশালী হয়। আইনে যদি কোনো ত্রুটি থাকে, তাহলে পারবে না। আমি সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ চেয়ারম্যানকে বলে দিয়েছি, তিনি এই বিষয়টি দেখবেন। যদি আরো শক্তিশালী আইন প্রণয়ন করা লাগে, আমরা সেটাও করে দেব।’
ডিএসইসি সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার সময় তারা পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের ব্যবস্থা, বাজারে অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি, রাষ্ট্রয়াত্ত্ব কোম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজারে আনয়ন, টি-বন্ডের লেনদেন যথা শিগগিরই চালুকরণ, বহুজাতিক কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে উদ্বুদ্ধ করা, গ্রামীন ফোন এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্বন্দ্বের দ্রুত নিষ্পত্তি, ডিএসই এবং পুঁজিবাজারের লেনদেনের ওপর কর হ্রাস, অডিট রিপোর্টের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, পুঁজিবাজার উন্নয়নে আইসিবি ও অন্যান্য সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সমন্বয় কমিটি গঠনের দাবি তুলে ধরেন। মুস্তফা কামাল বলেন, ‘তাদের একটা দাবি ছিল, আমরা তাদের ট্যাক্স কেটে নিই। ওই অ্যাডভান্সড ইনকাম ট্যাক্সের ওই হারটা আমরা কমাতে পারি কী না। আমরা বলেছি, যতটুকু সম্ভব আমরা বিবেচনা করব।’তিনি বলেন, “তাদের আরেকটা দাবি ছিল, এক্সেস টু ব্যাংকিং ফাইন্যান্স। অন্যান্য যেমনিভাবে কোনো ক্লায়েন্ট ব্যাংকে গিয়ে বড় করতে পারে টাকা, ঠিক তেমনিভাবে পুঁজিবাজারে যারা ব্যবসা করেন, তারাও সেই সুযোগটা যেন পায়।
‘আমরা বলেছি, আমাদের জানা মতে এই মুহূর্তে দেশের কারো জন্যই রেস্ট্রিকশন নাই যে, ব্যাংকে যেতে পারবে না। ব্যাংক ক্লায়েন্ট রিলেশনশিপের ভিত্তিতে অন্যরা যেভাবে লোন পায়, সুযোগ-সুবিধা পায়, পুঁজিবাজারে যারা ব্যবসা করেন, তাদের জন্যও সেই সুযোগ-সুবিধা থাকবে। ‘সিকিউরিটি দিতে হবে, পুঁজিবাজারের আরো ভাল দিক হলো, অতীতে তারা লোন নিয়ে সরকারের সেই টাকা শোধ দিয়েছে। সুতরাং আমি মনে করি যে, তাদের জন্য আরো সুযোগ ভাল। সেজন্য আমরা বলেছি, তাদেরকে এলাউ করা হবে।” তিনি বলেন, ‘তাদের দাবি, কিছু ভাল শেয়ার বাজারে আনার জন্য। আমি আশ্বস্ত করেছি, দিন-ক্ষণ দিয়ে বলতে পারব না কবে নিয়ে আসব, যেসব সরকারি শেয়ারের মৌলিক এলাকা ভাল, সেসব শেয়ার বাজারে নিয়ে আসব।’
পাইকগাছায় ইয়াবাসহ ৬ জন আটক
পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা ॥ খুলনার পাইকগাছায় ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে কপিলমুনির গোড়াবাড়ী মোড়স্থ হায়দারের চায়ের দোকানে মাদকদ্রব্য বেচাকেনা হচ্ছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এসময় ৬ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন-পাইকগাছা উপজেলার নাছিরপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ মোড়লের ছেলে সাহেদ মোড়ল (৩২), নোয়াকাটি গ্রামের সবুজ গাজীর কন্যা ময়না খাতুন (২৫), তালার কানাইদিয়া গ্রামের কাদের তালুকদারের ছেলে রাসেল তালুকদার (৩২), আমজাদ আলী বিশ্বাসের ছেলে হাফিজুর রহমান ওরফে প্রকাশ বাবু (৩০), শেখ আফজাল হোসেনের পুত্র শেখ এখলাছ হোসেন (২৫) ও শেখ নজরুল ইসলামের পুত্র মিরাজুল ইসলাম (৩০)। তাদের কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে বলে জানান ওসি এমদাদুল হক শেখ। পরে আটককৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
ঝিনাইদহে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ ঝিনাইদহে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের এইচ এস সড়কের জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এ উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাড. এস এম মশিয়ুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. আব্দুল মজিদ, যুগ্ম-আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান, জাহিদুজ্জামান মনা, অ্যাড. মুন্সী কামাল আজাদ পান্নু, আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, ছাত্রদল নেতা বাবলু রহমান বাবলু, সাইদুর রহমান সাহেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুব আলম মিলু। বক্তারা, তৃণমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার আহ্বান জানান।










