হৃদয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর রহস্য নিয়ে যা বললেন বাংলাদেশ দলের কোচ ফিল সিমন্স

0
সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাওহীদ হৃদয়ের ঐতিহাসিক ডাবল সেঞ্চুরি ও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলছেন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স ।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ অনলাইন ডেক্স ॥ অবিশ্বাস্য ও অসাধারণ এক ডাবল সেঞ্চুরি উপহার দেওয়ার পর তাওহিদ হৃদয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর রহস্য নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।

জিম্বাবুয়েতে অভিষেক হওয়ার পর নিজের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমে মিরপুরের প্রথম ম্যাচে দুবারই বেপরোয়া শট খেলে আউট হওয়ায় হৃদয়কে নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছিল। এমনকি তাঁর টেস্ট খেলার মতো ধৈর্য আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।

তবে সব সমালোচনাকে পেছনে ফেলে তিনি দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৪২ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কোচ সিমন্স জানান, এই ঘুরে দাঁড়ানোর আসল রহস্য কেবল হৃদয়ই ব্যাখ্যা করতে পারে, কারণ মাঠে সে নিজেই সবকিছু পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেছে।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়ে ব্যাট উঁচিয়ে ঐতিহাসিক ইনিংস উদযাপন করছেন তাওহীদ হৃদয় ।। ছবি: বিসিবি

মাংসপেশিতে টান লাগায় হৃদয় সংবাদ সম্মেলনে আসতে না পারায় তৃতীয় দিন শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন কোচ।

কোচ সিমন্স আরও জানান, মিরপুরের ইনিংসের পর কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে আলাদা করে চাপ না দিয়ে বরং সব ব্যাটসম্যানের সঙ্গেই পরিস্থিতি ও চাপ সামলানোর বিষয়ে দলীয়ভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

শেষ দুই ব্যাটসম্যান তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে হৃদয়ের ২০২ রানের জুটি এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও তাঁর শট নির্বাচন ও শেষ উইকেটে ফিল্ডারদের এড়িয়ে চার-ছক্কা হাঁকানোর অসাধারণ দক্ষতার উচ্চ প্রশংসা করেন তিনি।

কোচ বলেন, ক্লান্ত হয়ে পড়ার পরও হৃদয় যেভাবে খেলাটা বুঝে শেষ ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইক দিয়েছে এবং পুরো ইনিংস পরিচালনা করেছে, তা সত্যিই অতুলনীয়।

মুশফিক ও তাইজুলের সঙ্গে মিলে হৃদয় মাঠে যা করেছে তার পুরোটাই তাদের নিজস্ব চিন্তা ও সিদ্ধান্ত থেকে এসেছে বলে উল্লেখ করেন সিমন্স।

আজ সকালে মুশফিকের সঙ্গে যখন দল ৩ উইকেটে ৮৮ রানে ধুঁকছিল, সেখান থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লিড নেওয়ার পেছনেও হৃদয়ের এই আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল ইনিংসই মূল ভূমিকা পালন করেছে।