২০৩০ সালের মধ্যে মাতারবাড়ীতে ল্যান্ডভিত্তিক টার্মিনাল, টোকিও সম্মেলনে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর নতুন পরিকল্পনা

0
জাপানের টোকিওতে '১৫তম এলএনজি প্রোডিউসার-কনজুমার কনফারেন্স ২০২৬'-এ বাংলাদেশের নতুন জ্বালানি পরিকল্পনা তুলে ধরছেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও সরবরাহ বিঘ্নের ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলএনজি সরবরাহ অবকাঠামো সম্প্রসারণের নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের মধ্যে মহেশখালীতে দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতার আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মাতারবাড়ীতে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতার ল্যান্ডভিত্তিক টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত ‘১৫তম এলএনজি প্রোডিউসার-কনজুমার কনফারেন্স ২০২৬’-এ বাংলাদেশের এই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। টোকিওর দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘অ্যাডভান্সিং এলএনজি ফর দ্য ফিউচার: রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিলায়েবিলিটি’।

সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন ও অস্থিতিশীলতার কারণে কেবল জ্বালানি পাওয়ার ওপর নির্ভর করার সুযোগ নেই। সরবরাহের বৈচিত্র্য, সাশ্রয়ী মূল্য ও নমনীয়তার ভিত্তিতেই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ণ ও শিল্পায়নের কারণে দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি করা এলএনজি এখন দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম মূল অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে দুটি এফএসআরইউয়ের মাধ্যমে দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে এবং বার্ষিক চাহিদা রয়েছে প্রায় ৭ মিলিয়ন টন। এই চাহিদা পূরণে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে সরবরাহ সক্ষমতায় আরও ৩ থেকে ৪ মিলিয়ন টন এবং ২০৩১ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে সক্ষমতা ১৭ থেকে ১৮ মিলিয়ন টনে উন্নীত করার রূপরেখা নেওয়া হয়েছে।

আমদানির উৎস ও পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য আনতে সরকার জি-টু-জি, আন্তর্জাতিক দরপত্র এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির সাহায্য নিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া অফশোর বিডিং রাউন্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণে কর সহায়তাসহ বিভিন্ন বিনিয়োগবান্ধব সুবিধার কথা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।