স্ত্রীকে ঘরে আটকে রেখে রামিসাকে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়, পলাতক আরেক সহযোগীকে খুঁজছে পুলিশ

0

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার আগে ধর্ষণ করার লোমহর্ষক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এই পাশবিক অপরাধ সংঘটনের সময় অভিযুক্ত সোহেল রানা তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘরের একটি কক্ষে আটকে রেখেছিলেন এবং এ ঘটনায় তার সঙ্গে আরও একজন সহযোগী ছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। আজ বুধবার (২০ মে ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে হাজির করা হলে আসামি সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যদিকে, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়া সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আজ ঢাকার অপর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া রিপন আসামিদের আদালতে হাজির করে আলাদা আবেদন জানান। সোহেল রানা আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দেওয়ায় তাকে নতুন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়নি।

পুলিশের তদন্ত ও আদালতের আবেদন থেকে জানা যায়, হত্যার শিকার শিশু রামিসা আক্তার রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনেরা। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন তাঁরা। সেখানে ফ্ল্যাটের শয়নকক্ষে খাটের নিচে শিশুটির মস্তকবিহীন ক্ষতবিক্ষত মরদেহ এবং বাথরুমের একটি বালতির ভেতর বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিবরণ অনুযায়ী, মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয় এবং তার দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার সকালে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না যখন নিজের কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন, তখন সোহেল বাইরে থেকে দরজার সিটকিনি লাগিয়ে দেন। এরপর রামিসাকে জোরপূর্বক ফ্ল্যাটে তুলে এনে ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে হত্যা করা হয়। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে দরজা ভাঙার আগেই সোহেল ও তার অজ্ঞাতনামা সঙ্গী জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। ঘরের বাইরে শোরগোলে জেগে ওঠা স্ত্রী স্বপ্নাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে স্বামী ও তার সঙ্গীকে পালাতে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে স্বপ্নার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় সোহেল, স্বপ্না ও এক অজ্ঞাতনামা সহযোগীসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।