সাগর-রুনি হত্যায় মিলল নতুন সূত্র, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক ব্যক্তিত্বের সম্পৃক্ততার আভাস

0
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার নতুন সূত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তবে তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম কিংবা পরিচয় এখন প্রকাশ করেননি তিনি।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেন।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা অন্য একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা তদন্ত পরিচালনা করতে গিয়ে ভিন্ন মামলার সিডিআর পর্যালোচনায় হঠাৎ করেই সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পেয়ে যায়।”

প্রসঙ্গের গভীরতা বোঝাতে তিনি আরও যুক্ত করেন, “যেমন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যার ঘটনা নিয়ে সাবেক মেজর মোজাফফর হোসেনের বিষয়ে কিছুটা ক্লু পেয়েছিলাম। এরকমই সাগর-রুনির ব্যাপারেও ক্লু পেয়েছি। তবে এর নাম পরিচয় এখনই প্রকাশ করতে পারছি না।”

অভিযুক্ত ব্যক্তির ওপর নজরদারির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তবে এটুকু বলতে পারি একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, তার সাথে সাগর-রুনির এই ঘটনার সাথে কানেকশন পাওয়া যায়। আমরা সেগুলো যাচাই বাচাই করে দেখছি। তার ওপর আমাদের নজরদারি রয়েছে। আরও তদন্ত হওয়ার পরে আরও অথেনটিক কোনো কিছু পাওয়া গেলে পিবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তথ্যটা দিয়ে সহায়তা করা হবে।” একই সঙ্গে এটি একটি একক হত্যাকাণ্ড হওয়ায় এর বিচার সাধারণ দায়রা আদালতেই হবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।

শুরুতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পরবর্তীতে র‍্যাব দীর্ঘ দিন মামলাটি তদন্ত করে। বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটির অধীনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটির তদন্তভার সামলাচ্ছে। সবশেষ ২৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলাম আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ধার্য করেছেন।