রংপুরের আলোচিত চার খুন: গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি

0
রংপুরের আলোচিত চার খুনের মামলায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডোপ টেস্টের ফল নেগেটিভ এসেছে। পুলিশ পূর্বে ইয়াবা সেবনের দাবি করলেও নমুনা পরীক্ষায় মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি।। ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের বহুল আলোচিত চার খুনের মামলায় গ্রেপ্তার প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের (মাদক পরীক্ষা) ফল নেগেটিভ এসেছে। অর্থাৎ, নমুনা পরীক্ষায় আসামিদের মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্পর্শকাতর এই চার হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অংশ হিসেবে ল্যাব টেকনোলজিস্টের সহায়তায় রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে আসামিদের প্রস্রাবের নমুনা (ইউরিন স্পেসিমেন) সংগ্রহ করা হয়েছিল। ল্যাবরেটরি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাদের শরীরে কোনো মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

নমুনা সংগ্রহের বিষয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজের টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ আশরাফ বলেন, “ডোপ টেস্টের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ইউরিন স্পেসিমেন বা প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে নমুনাগুলো ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে তাদের মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”

এর আগে রোববার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা নেওয়া হয়। ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে আসামিদের গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবন করতেই তাঁরা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে উঠেছিলেন এবং সেখান থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। কিন্তু ডোপ টেস্টের ফল নেগেটিভ আসায় পুলিশের সেই প্রাথমিক তদন্তের দাবি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন ও পর্যালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আলোচিত এই ঘটনায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হলে তাঁরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানায় পুলিশ।

ডোপ টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসায় চার খুনের মামলার তদন্ত ভিন্ন মোড় নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, “মামলা কোন দিকে দাঁড়াচ্ছে, সেটি তো আমরা বলতে পারব না। তবে তাদের যে নমুনা নেওয়া হয়েছিল সেখানে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।”

তবে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল ডোপ টেস্টের ফল দিয়ে চার খুনের পুরো তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে না। হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সাক্ষীদের সাক্ষ্য এবং ফরেনসিকসহ পারিপার্শ্বিক সব তথ্য যৌথভাবে বিবেচনা করেই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।