সংসার বাঁচাতে বিক্রি করেছিলেন বাড়ি-স্কুল শেষমেশ তালাক দিয়ে বের করে দিল স্বামী

দুই সন্তান নিয়ে অসহায় নারীর সংবাদ সম্মেলন

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সংবাদ সম্মেলন করতে এসে দুই সন্তানকে পাশে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নারগীস আক্তার। তিনি অভিযোগ করেন, সংসার টিকিয়ে রাখতে ঢাকার বনশ্রী এলাকায় থাকা নিজের বাড়ি, একটি কিন্ডারগার্টেন ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রি করে স্বামীর হাতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন। সেই অর্থে শ্বশুরবাড়ির জমিতে চারতলা ভবনের ফাউন্ডেশন নির্মাণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে তালাক দিয়ে দুই সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রেস ক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নারগীস আক্তার এসব অভিযোগ করেন। এ সময় দুই সন্তান মায়ের পাশে উপস্থিত ছিল। বক্তব্য দিতে গিয়ে একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

নারগীস আক্তার জানান, ২০০৭ সালে যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের মোবারককাঠি গ্রামের বাসিন্দা বদিয়ার রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নানা ধরনের প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। তবে সংসার রক্ষার স্বার্থে সবকিছু সহ্য করে স্বামীর পাশে থেকেছেন।

তিনি বলেন, স্বামীর কথায় বিশ্বাস করে ঢাকায় আমার নিজের বাড়ি, বনশ্রী এলাকায় পরিচালিত কিন্ডারগার্টেন এবং অন্যান্য সম্পদ বিক্রি করি। স্বজনদের কিছু না জানিয়েই প্রায় ৫০ লাখ টাকা তার হাতে তুলে দিই। সেই টাকায় শ্বশুরবাড়ির জমিতে চারতলা ভবনের ফাউন্ডেশন করা হয়। কিন্তু এখন সেই বাড়িতেই আমার থাকার অধিকার নেই।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়ে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন দীর্ঘদিন ধরে তাকে ভয়ভীতি ও নির্যাতনের মধ্যে রেখেছে। বিভিন্ন সময়ে তার স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ এবং ব্যাংকে থাকা টাকাও আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নারগীস আক্তারের ভাষ্য, সম্প্রতি তাকে তালাক দেওয়ার পর দুই সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি তাদের থাকার ঘরেও তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ঢাকায় ফিরে যাওয়ার মতো আর কোনো সম্পদ আমার নেই। স্বজনের কাছেও সন্তানদের নিয়ে থাকার পরিস্থিতি নেই। এখন কোথায় যাব, কীভাবে সন্তানদের নিয়ে বাঁচব, সেটাই বুঝতে পারছি না।

নারগীস আক্তার জানান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সালিশ-বিচার করেছেন। সালিশে তার অর্থে নির্মিত বাড়িটি সন্তানদের নামে লিখে দেওয়া অথবা তার টাকা ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও স্বামী ও তার পরিবার তা মানেনি।

এ ঘটনায় তিনি যশোর কোতয়ালি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান। তবে মামলার আসামিরা জামিনে বের হয়ে তাকে ও তার সন্তানদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে যশোর ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন।