শখের প্রাণী থেকে ভয়ংকর জলাতঙ্ক

0

বি এম আসাদ ।। বাড়িতে বাড়িতে কুকুর ও বিড়াল পোষার শখ এখন ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে প্রতিদিনই শত শত শিশু, নারী ও পুরুষ র‍্যাবিস ভাইরাসে (জলাতঙ্ক) আক্রান্ত হচ্ছেন।

এমনকি গর্ভবর্তী মায়েদের শরীরেও এ ভাইরাস প্রবেশ করছে এবং নবজাতকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে, কিন্তু মিলছে না পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন।

হাসপাতালের ইপিআই বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুকুর, বিড়াল, বেজি বা অন্যান্য পশমজাতীয় প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ে জলাতঙ্ক রোগের সংক্রমণ ঘটে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এ রোগ একবার হলে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী।

হাসপাতালের ইপিআই বিভাগের সুপারভাইজার মো. নুরুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন গড়ে ১২০ জন রোগী র‍্যাবিস ভ্যাকসিন নিতে হাসপাতালে আসেন। কখনো এ সংখ্যা আরও বেশি হয়।

তিনি বলেন, ‘জেলার প্রায় প্রতিটি এলাকায় হাজার হাজার মানুষ শখ করে কুকুর ও বিড়াল পালন করছেন। ছেলে-মেয়েরা প্রাণীগুলোর সঙ্গে খেলার সময় আক্রমণের শিকার হচ্ছে। অনেক গর্ভবতী নারীও আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে নবজাতকও ভাইরাস বহন করছে।’

ইপিআই বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১ হাজার ৭৮৩ ডোজ টিকা প্রদান করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে টিকার সংকট থাকায় ৬০৬ ডোজ প্রদান করা হয়। একইভাবে মার্চে ৮৭০ ডোজ, এপ্রিলে ২২৪১ ডোজ, মে মাসে ২৫২৬ ডোজ জুন মাসে ১৭৪ ডোজ, জুলাই মাসে ১৯৭৪ ডোজ, আগস্টে ৬৫৫ ডোজ। এবং ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০০০ ডোজ টিকা প্রদান করা হয়েছে। টিকা গ্রহণকারীদের একটি বড় অংশ বাড়িতে প্রাণি পুষে থাকে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ পোষা বিড়ালের কামড়ে, ১০ শতাংশ রাস্তার কুকুরের কামড়ে এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণে সংক্রমিত হচ্ছেন।

বর্তমানে সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিনের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে রোগীদের বাইরের ফার্মেসি থেকে উচ্চমূল্যে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবারের অনেকেই ভ্যাকসিন না পেয়ে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ছেন।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত বলেন, ‘এখন ঘরে ঘরে কুকুর-বিড়াল পোষা হচ্ছে। কামড়ের শিকারও বাড়ছে। কিন্তু আমরা ভ্যাকসিনের চাহিদা মেটাতে পারছি না। সরকারের কাছ থেকেও বর্তমানে কোনো র‍্যাবিস ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।’

চিকিৎসকরা বলছেন, বিলাসিতা ও শখ থেকে পোষা প্রাণীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়ংকর সংকট ডেকে আনছে। যথাযথ সচেতনতা ও সরকারি উদ্যোগ ছাড়া এ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।