রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

0
মির্জা ফখরুল ইসলামকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক এই পদের শপথ পাঠ করিয়েছেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক এই পদের শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সঞ্চালনায় জাতীয় সংগীত ও পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে দরবার হলে অনুষ্ঠান শুরু হয়। শপথে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করিতেছি যে, আমি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদের কর্তব্য বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব। আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব। আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিব। আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন অনুযায়ী যথাবিহীত আচরণ করিব।” শপথগ্রহণের পর তিনি আনুষ্ঠানিক শপথনামায় স্বাক্ষর করেন এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার তা সত্যায়ন করেন।

বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন।

উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থীর উপস্থিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংসদে মোট ৩৪৯ জন সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট প্রদান করেন। এতে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হন। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে ৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি পূর্বে কৃষি এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণকারী মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে রাজপথে ভূমিকা রাখা মির্জা ফখরুল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর শিক্ষকতা ও সরকারি দায়িত্ব সামলে ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি পূর্ণাঙ্গ রাজনীতিতে যুক্ত হন।