রংপুরে গরুর আবাসিক হোটেল, ব্যবসায়ীদের বড় ভরসা

0
রংপুর নগরের বারো আউলিয়া এলাকায় অবস্থিত আশানুর ইসলামের গরুর আবাসিক হোটেলে টিনের শেডের নিচে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে দেশের বিভিন্ন হাট থেকে কেনা গরু।। ছবি: সংগৃহীত

ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে হাটে গিয়ে গরু কেনার পর সেটি রাখার জায়গা না পাওয়ার কষ্ট দেখেছিলেন আশানুর ইসলাম। ঝড়-বৃষ্টি বা রোদে গরুর শারীরিক দুর্দশা এবং হঠাৎ গরু মারা গিয়ে ব্যবসায়ীদের বড় ক্ষতির দৃশ্যও চোখ এড়ায়নি তাঁর। সেই শৈশবের অভিজ্ঞতাই একদিন বদলে দেয় তাঁর জীবনের গতিপথ।

বাবা আনছার আলীর সঙ্গে পরামর্শ করে গরুর আবাসিক হোটেল খোলার সিদ্ধান্ত নেন আশানুর (৪৫)। সেই সিদ্ধান্তের ফল আজ দৃশ্যমান। ১০ বছরে তাঁর গরুর হোটেলের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দূরদূরান্তের গরু ব্যবসায়ীদের কাছে।

রংপুর নগরের মডার্ন মোড় থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে বারো আউলিয়া এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ডানপাশে ৫০ শতক ভাড়া নেওয়া জমিতে গড়ে উঠেছে এই হোটেল। বছর দেড়েক আগে মডার্ন মোড়ের পাশের পুরোনো জায়গা থেকে সরিয়ে এখানে আনা হয়েছে।

টিনের শেডের ভেতরে সারিবদ্ধভাবে গরু রাখা হয়েছে। বিশেষ ব্যবস্থায় শেডে সূর্যের আলো প্রবেশ করছে। গরুর মাথার ওপর ঘুরছে বৈদ্যুতিক পাখা। শ্রমিকেরা গরুকে খাবার দিচ্ছেন, পাশাপাশি চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। খড় ও ভুসি খাওয়ানোর আলাদা ব্যবস্থাও রয়েছে।

আশানুর জানান, প্রতিদিন রংপুরের বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে ব্যবসায়ীরা রাতে এখানে রাখেন। সাধারণ সময়ে গরুপ্রতি ভাড়া ৫০ টাকা। তবে কোরবানির ঈদ ঘিরে চাপ বাড়ায় এখন নেওয়া হচ্ছে ৬০ টাকা।

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা রংপুরের শঠিবাড়ি, লালবাগ, বেদগাড়ি, বুড়িরহাট, পাওটানা ও লালমনিরহাটের বড়বাড়ি হাট থেকে প্রতিদিন শত শত গরু কিনছেন। এর একটি অংশ সঙ্গে সঙ্গে ট্রাকে পাঠানো হলেও বাকিগুলো রাখা হচ্ছে আশানুরের হোটেলে।

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সুরুজ মিয়া বলেন, আগে গরু কেনার পর পরিবহন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো। বেশি টানাটানিতে গরু ক্লান্ত হয়ে যেত। এখন হোটেলে রেখে সুবিধাজনক সময়ে পরিবহন করতে পারছেন।

চট্টগ্রামের আরেক ব্যবসায়ী এমদাদ হোসেন জানান, কোনো ব্যবসায়ীর গরু কিনতে তাৎক্ষণিক টাকার প্রয়োজন হলে আশানুর ধার দেন। এভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

হোটেলটি দেখাশোনা করেন আশানুর ও তাঁর বাবার পাশাপাশি ছোট ভাই শাহিন মিয়া ও ভগ্নিপতি আলাল মিয়াও। শাহিন বলেন, ব্যবসায়ীরা মূলত নিরাপত্তার বিষয়টি দেখেন। এখন পর্যন্ত গরু হারিয়ে যাওয়া বা এ ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, “এটি ভালো উদ্যোগ। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট থেকে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন হাটে গরু কিনে এখানে রাখেন, পরে পরিমাণমতো হলে গাড়িতে নিয়ে যান। গরুর আবাসিক হোটেল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা খুব উৎফুল্ল। একই সঙ্গে গরুগুলোও কম ক্লান্ত হচ্ছে।”