যেকোনো সংস্করণে এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়: নাজমুল হোসেন

0
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্মরণীয় টেস্ট জয়: ডারউইন টেস্ট শেষে আনন্দ-উৎসবে ভাসছে টাইগাররা।। ছবি: সংগৃহীত

ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর এই সাফল্যকে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারানোর পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি জানান, যেকোনো সংস্করণে এটিই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়।

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেও ডারউইনের এই ঐতিহাসিক জয়ের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ক্রিকেটের ইতিহাসে শ্রীলঙ্কা কখনোই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের টেস্টে হারাতে পারেনি। অন্যদিকে পাকিস্তান ১৯৯৫ সালে শেষবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের হারিয়েছিল।

এই একবিংশ শতাব্দীতে কেবল ভারতই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের হারানোর কৃতি দেখিয়েছিল। এবার সেই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশের নাম। যদিও ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ, তবুও শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদের নিজেদের মাটিতে হারানোর এই সাফল্যকে সবচেয়ে ওপরে রাখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন ।। ছবি: সংগৃহীত

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নাজমুল হোসেন বলেন, “এটাই এখন পর্যন্ত যেকোনো সংস্করণে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। আমরা ভবিষ্যতে আরও বিশেষ কিছু করতে চাই।”

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন নিজে সামনে থেকে দলের এই ঐতিহাসিক অর্জনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ দলের রানের পাহাড় গড়তে তিনি খেলেন ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ এক ইনিংস। পুরো ম্যাচজুড়ে তাঁর বিচক্ষণ অধিনায়কত্বের প্রশংসা করেছেন ধারাভাষ্যকক্ষে থাকা সাবেক অজি অধিনায়ক রিকি পন্টিং ও ডেভিড ওয়ার্নারের মতো কিংবদন্তিরা।

নিজের ও দলের নৈপুণ্য নিয়ে আবেগপ্লুত নাজমুল বলেন, “এই জয়ে দারুণ খুশি। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্বিত এবং ছেলেরা যেভাবে খেলেছে, তাতেও গর্বিত। আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি।”

টেস্টে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে অধিনায়ক বিশেষভাবে পেসারদের মানসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। তিনি উল্লেখ করেন, “টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। পাঁচ বছর আগেও পেসাররা টেস্ট খেলতে চাইত না। কিন্তু আমরা এখন অনেক টেস্ট খেলছি এবং তারাও টেস্ট ক্রিকেটকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা খেলতে চায়, পারফর্ম করতে চায়, বিশ্বমানের হতে চায়। এখন তাদের মানসিকতাই এমন। মুশফিকুর ও মুমিনুলের মতো সিনিয়ররাও তাদের আরও বেশি টেস্ট ক্রিকেট খেলতে উৎসাহিত করেছেন।”

ম্যাচের প্রথম ইনিংসে দারুণ সেঞ্চুরি হাঁকানো ওপেনার তানজিদ হাসান সম্পর্কে নাজমুল বলেন, “সাদা বলের ক্রিকেটে তানজিদ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে। কিন্তু এই টেস্টে ও শান্ত ছিল এবং বল অনুযায়ী শট খেলেছে। টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যান হিসেবে আমরা চাই, তানজিদ যেন দলে প্রভাব ফেলতে পারে। ও সেটাই করেছে।”

সিরিজের প্রথম টেস্টে জয়ের পর আগামী ২২ আগস্ট ২০২৬ থেকে ম্যাকাইয়ে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট নিয়েও দিকনির্দেশনা দেন অধিনায়ক। তিনি বলেন, “আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। পাঁচ দিনই ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে, আমি একই কথা বলব। আমরা যদি সেশন ধরে ধরে খেলতে পারি, নিচের সারির ব্যাটসম্যানরা যদি নিয়মিত অবদান রাখতে পারে, তাহলে এসব বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।”