যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা ও ঝটিকা মিছিল : গ্রেফতার ৪২

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের বকুলতলায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে গত রোববার গভীর রাতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। একই দিন ভোরে শহরের মাইকপট্টি এলাকায় কয়েক মিনিটের ঝটিকা মিছিল করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মীরা।

পুলিশ জানায়, দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতেই এসব করা হচ্ছে। এ ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, রোববার রাতে দুর্বৃত্তরা স্মৃতিস্তম্ভের নিচে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আগুনের ভিডিও তুলে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। ফেসবুকে স্মৃতিস্তম্ভটি পুরোপুরি পুড়িয়ে দেওয়ার দাবি করা হলেও সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় তা অক্ষত আছে। কেবল একটি জায়গায় সামান্য কালো দাগ পড়েছে।

সোমবার সকালে কোতোয়ালি থানা ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। ফুটেজে দেখা যায়, গভীর রাতে তিন যুবক পেট্রোল বা দাহ্য পদার্থ দিয়ে স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিচ্ছেন এবং অন্য এক যুবক তা ভিডিও করছেন।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্য এএসআই মো: জাহিদুল ইসলাম ও নায়েক মুছা বিশ্বাসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানাগেছে।

যশোর জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মিরাজুল ইসলাম জানান, ঝটিকা মিছিল ও স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা—দুই ঘটনারই তদন্ত চলছে। এসব ঘটনায় জড়িত অভিযোগে জেলাজুড়ে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে যশোর সদরে ১৮ জন, চৌগাছায় ২ জন, মনিরামপুরে ৩ জন, শার্শায় ২ জন, অভয়নগরে ৪ জন, কেশবপুরে ৩ জন, বাঘারপাড়ায় ৪ জন, বেনাপোলে ৪ জন ও ঝিকরগাছায় ২ জন রয়েছেন।

যশোর সদর থেকে গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়ার শেখ শহিদ, পুরাতন কসবার ইমরান হোসেন বাদল, শংকরপুর ছোটনের মোড়ের মোহাম্মদ আলী, তেঁতুলিয়ার বিপ্লব হোসেন, ভাতুড়িয়ার তানভীর, পুরাতন কসবা টালিখোলার রফিকুল ইসলাম রহমত, পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার সাজ্জাদুল ইসলাম রকি, উত্তর ললিতাদহের সোহাগ হোসেন, চাঁচড়া বাবলাতলার তারেক আজিজ, ঝুমঝুমপুরের নূর আলম, শানু, কামরুজ্জামান, শহরের বড়বাজার এলাকার মকবুল হোসেন, শহরের বড়বাজার এলাকার শেখ শাহাজাদা সেলিম হৃদয় ওরফে ভাগ্নে হৃদয়, পুলিশ লাইন টালিখোলার সুমন শেখ, ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের সেলিম আহমেদ, রূপদিয়ার আসলাম হোসেন, ঘুনি দোলনাঘাটের মাহিম হাসান গাউস।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, মাইকপট্টি এলাকায় মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। মামলার বাদী পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কামরুজ্জামান।

মামলাটিতে ৫৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।