পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার প্রতিবাদে যশোরে মানববন্ধন ও গণসমাবেশ

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে যশোরে মানববন্ধন ও গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার ইতিহাস এবং মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করেছেন সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে যশোর শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যশোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন তৌহিদ আহমেদ, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম উদ দ্দৌলা, সদর উপজেলা কমান্ডের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হারুন অর রশিদ, জাসদ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম, সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এ এইচ এম মুজাহারুল ইসলাম মন্টু, বাসদ নেতা হাচিনুর রহমান এবং প্রেসক্লাব যশোরের সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম।

বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের অসীম সাহস, আত্মত্যাগ ও বীরত্বের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। স্বাধীনতার এত বছর পরও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানে বাধা দেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এটি শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধার ব্যক্তিগত সম্মানের বিষয় নয়, বরং দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

তাঁরা আরও বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার জীবনের শেষ বিদায়েও যদি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়, তাহলে তা মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি তাদের পরিবার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করে।

এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে আর না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।