যশোরে ঈদের ছুটিতে বেপরোয়া মোটরসাইকেলে প্রাণ হারিয়েছে ৭ জন, অধিকাংশ তরুণ ও কিশোর

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চারদিনের ছুটিতে যশোরে অর্ধশতাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ সময় শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সড়ক নিয়ন্ত্রণে অব্যবস্থাপনা আর তরুণ ও কিশোরদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটছে বলে বিভিন্ন মহল অভিযোগ করেছেন। হাসপাতালে আহতদের রাখার মতো স্থান নেই বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পবিত্র ঈদের দিন রাত ৮টার দিকে যশোর-মাগুরা সড়কের পাঁচবাড়িয়া গ্রিন কফি হাউজের সামনে দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ইসলাম (২৪) নামে এক যুবক ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। রাত সাড়ে ৮টায় যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত ইসলাম যশোর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের পুত্র। এ ঘটনায় তার চাচাতো ভাই রাসেল ও রুবেল আহত হন। রাসেলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্যে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রুবেল অপেক্ষাকৃত সুস্থ রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এদিন রাতে গিন কফি হাউজ থেকে তারা চা পান করে মোটরসাইকেলযোগে প্রধান রাস্তায় উঠছিলেন। তখন যশোর থেকে একটি মোটরসাইকেলযোগে ২জন বেপরোয়াগতিতে খাজুরা অভিমুখে যাওয়ার পথে ওই মোটরসাইকেলের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষে ইসলাম ঘটনাস্থলে নিহত হন।
বুধবার (৪ মে) সড়ক দুর্ঘটনায় চৌগাছার দুই মোটরসাইকেলেরআরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতদের বাড়ি উপজেলার হাজরাখানা গ্রামে। এদিন বিকেলে উপজেলার হাজরাখানা-মহেশপুরের ইলেশমারি সড়কের জিরো পয়েন্টে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, গত বুধবার হাজরাখানা গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে শাহিনুর রহমান শাহি (২৪) ও একই গ্রামের বাবর আলীর ছেলে সাগর হোসেন (২২) মোটরসাইকেলে পার্শ্ববর্তী মহেশপুর উপজেলার মদনপুর গ্রামে যাচ্ছিলেন। বিকেল ৫ টার দিকে চৌগাছা-মহেশপুর উপজেলার জিরো পয়েন্টে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে বিদ্যুতের খুঁটির সাথে ধাক্কা খান। এতে ঘটনাস্থলেই চালক শাহি মারা যান। হাসপাতালে নেয়ার পথে সাগরের মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত দুই যুবক বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেলের গতি বেশি থাকায় রাস্তার টার্নিংয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে তারা ধাক্কা খান।
বুধবার রাত ৮টার দিকে যশোর-রাজগঞ্জ সড়কে মোটরসাইকেল আরোহী ৩ বন্ধু গুরুতর আহত হলে তাদের যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধ্যরাতে রিংকু শেখ (১৮) মারা যান। রিংকু শেখ মনিরামপুর উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামের কামরুল ইসলাম শেখ পুত্র। তিনি পলাশী ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি’র ছাত্র ছিলেন। এ ঘটনায় আহত চট্টগ্রামের মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র যশোর শহরের শংকরপুরের বাবুল সিকদারের পুত্র রাহাদ সিকদার (১৯) ও শংকরপুরের আলেক গাজীর পুত্র দিপু (২০) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা জানিয়েছেন, তারা ৩ বন্ধু মোটরসাইকেলযোগে সন্ধ্যায় ঘুরতে যান। এ সময় যশোর রাজগঞ্জ সড়কের গোয়ালদহ বাজারে বেপরোয়াগতিতে একটি মাইক্রোবাস এসে বিপরীত দিক থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তারা আহত হন।
এর আগে ঈদের দিন বেনাপোলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বেনাপোলের নামাজ গ্রামের কওসার আলীর পুত্র সুজন (২৪) নিহত হয়েছেন। বেপরোয়াগতিতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে তিনি নিহত হন। ১ মে দুপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শহরের বকচর এলাকার মৃত শহীদের পুত্র হাবিব (২৪), ২ মে মনিরামপুরের কৃষ্ণবাটি গ্রামের আমেনা খাতুন (২২) সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছেন।
সূত্র মতে, চারদিনের ছুটিতে যশোরে ৫০টিরও বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় আহতদের ভেতর ৯০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর ভেতর ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হলে স্বজনরা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নেন। ৮ জন হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। ছাড়পত্র খাতায় তাদের পলাতক দেখানো হয়েছে। হাসপাতালের ওয়ার্ডে জায়গার অভাবে অনেককে চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। কেউ কেউ প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অনেকে জরুরি বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, ছুটিতে ঘুরতে বের হয়ে এদের সকলেই মোটরসাইকেল চালানোর গতি ছিল বেপরোয়া। অন্যান্য যানবাহনের চালকরা দ্রুতগতিতে চালিয়েছেন তাদের বাহন।
মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে তরুণ ও কিশোরদের সংখ্যা ছিল বেশি। অল্পবয়সীদের হাতে অভিভাবকগণ মোটরসাইকেল দেয়ার কারণেই দায়ী করেছেন অনেকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহত সংখ্যা তাদের ব্যস্ততা বাড়িয়ে দিয়েছে। যা উদ্বেগের কারণ ছিল এবারের ছুটিতে।