মেয়ের মাধ্যমে মায়ের সখ পূরণ হেলিকপ্টারে করে বরকে নিয়ে পিতার বাড়িতে কনে

0
ছবি: সংগৃহীত।

আলী আকবর টুটুল, বাগেরহাট ॥ কোনো কোনো স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গেলে তা মুছে যায় না। সন্তানের হাত ধরেই কখনো কখনো পূরণ হয়। এমনই এক ঘটনার সাক্ষী হলো বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নবসী। মায়ের অপূর্ণ স্বপ্ন ছিল হেলিকপ্টারে করে পালকিতে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়া। নিজের জীবনে সে স্বপ্ন পূরণ করতে না পারলেও বড় মেয়েকে দিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ করলেন মা।

হেলিকপ্টারে নবদম্পতির আগমন ঘিরে ফয়েজ স্টেজ মাঠে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। বুধবার জড়ো হন হাজার হাজার নানা বয়সী মানুষ। ফয়েজ স্টেজের মালিক নাহিদুর জামান রাজুর বড় মেয়ে মেহেনাজ জামান শীথির পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার বাসিন্দা, ব্যাংক কর্মকরতা মেজবা আহমদের বিবাহোত্তর প্রথম শ্বশুরবাড়ি আগমন ছিল চোখ ধাঁধানো।

ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে নবদম্পতি ফয়েজ স্টেজ মাঠে অবতরণ করলে মুহূর্তেই সেখানে জড়ো হন হাজার হাজার উৎসুক জনতা । এরপর হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী পালকিতে করে নববধূ ও বরকে ঘরে তোলা হয়। এ সময় মিষ্টি বিতরণ, করতালি, মোবাইল ক্যামেরার ঝলকানিতে এক ভিন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

নবদম্পত্তি জানান, পিতা ও মায়ের কাছ থেকে এত বড় একটি সারপ্রাইজ পাবো এটা কখনও বুঝতে পারিনি। পরিবার ও স্বজনসহ গ্রামবাসীর কাছে দোয়া চাই।

মা ইসমাত জাহান জানান, আমার জীবনে একটা স্বপ্ন ছিল হেলিকপ্টারে করে পালকিতে শ্বশুরবাড়িতে আসবো। সেই সুযোগ আমার ভাগ্যে হয়নি। আমার বড় মেয়ের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন পূরণ করলাম। আজ মেয়ে ও জামাইকে হেলিকপ্টারে করে বাড়িতে আনতে পেরেছি, পালকিতে করে ঘরে
তুলেছি-এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।

পিতা নাহিদুর জামান রাজু বলেন, আমার দুইটি মেয়ে ও একটি ছেলে। ছেলে ব্যাংকে চাকরি করেন। আমার স্বপ্ন ছিল মেয়ের স্বামীকে স্বাগত জানাতে পুরো গ্রাম এক হয়ে আনন্দ করুক। আজ যেভাবে মানুষ এসেছে, হাসিমুখে অংশ নিয়েছে একজন পিতা হিসেবে আমি সত্যিই গর্বিত ও আনন্দিত।