মাফিয়া গ্যাংয়ের হেনস্তার শিকার হওয়া প্রমাণ করে বাঁধন সঠিক পথে ছিলেন: তথ্য উপদেষ্টা

0
সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।। ছবি: সংগৃহীত

ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, এই ধরনের হেনস্তার শিকার হওয়া প্রমাণ করে বাঁধন সঠিক পথে ছিলেন। আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল না বানিয়ে একটি ‘মাফিয়া গ্যাং’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, সরকার এই হামলার ঘটনা কোনোভাবেই ছেড়ে দেবে না এবং ইতালিতে ইতিমধ্যেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

ইতালির মেস্ত্রে শহরে বাঁধনের ওপর হওয়া হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, “আমি আজমেরী হক বাঁধনের উদ্দেশে বলব, এটা একধরনের অর্জন, সম্মান প্রাপ্তি যে আওয়ামী লীগের হেনস্তার শিকার হওয়া। একটি মাফিয়া গ্যাংয়ের শিকার হওয়া প্রমাণ করে আপনি সঠিক পথে ছিলেন।” তিনি আরও মন্তব্য করেন, “যাঁরা এই হামলা করেছেন, তাঁদের একদিক থেকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত—কারণ প্রবাসে এই আচরণের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো আওয়ামী লীগ কী বস্তু এবং তারা কারা।”

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “ইটস এ মাফিয়া গ্যাং। কেউ কেউ তাদের রাজনৈতিক দল বলে তাদের রাজনৈতিক অধিকারের কথা বলেন। কিন্তু আজমেরী হক বাঁধনের ওপর যা হলো, তার পর তাদের রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে আমাদের মাটিতে রাজনীতি করতে দেওয়া উচিত হবে কি না, তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।”

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে উপদেষ্টা আরও বলেন, “আপনি দেশে যা যা ঘটিয়েছেন, তার পর যদি ন্যূনতম দুঃখবোধ থাকত বা রাজনীতিতে ফিরে আসার ইচ্ছা থাকত, তবে এই ধরনের সহিংসতাগুলো প্রবাসেও চালানো হতো না।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়ে সরকার পুরোপুরি সচেতন এবং এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিতে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে ইতালিতে অবস্থান করছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। গত সোমবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় একটি পার্কে গেলে একদল রাজনৈতিক কর্মী তাঁর ওপর হামলা চালায়। তাঁকে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং জোরপূর্বক ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকার কারণেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাঁধন।