ভাড়া দেওয়ার সময় যাত্রীর টাকায় নজর, বাসেই শ্বাসরোধে হত্যা

এক্সপ্রেসওয়েতে লাশ

0
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রী ইসমাইল হোসেনকে (ইনসেটে) শ্বাসরোধে হত্যার পর ব্যবহৃত 'রাজ ক্লাসিক' বাসটি জব্দ করেছে পুলিশ।। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইসমাইল হোসেন (৪৯) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। বাসের ভাড়া দেওয়ার সময় সাথে থাকা বড় অঙ্কের টাকার লোভেই চালক, সুপারভাইজার ও সহকারী (হেলপার) মিলে ওই যাত্রীকে আটকে রেখে বাসের ভেতর শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি জানায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর সকাল পৌনে নয়টার দিকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে বনানী থানা-পুলিশ। উদ্ধারের সময় তাঁর মুখ ও দুই হাতে স্কচটেপ প্যাঁচানো এবং গলায় কালো দাগ দেখা যায়।

পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও হাতের আঙুলের ছাপের (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত ইসমাইল হোসেন জামালপুর জেলার বাসিন্দা। পরিচয় মেলায় তাঁর পরিবার এসে মরদেহ শনাক্ত করে এবং ইসমাইলের ছেলে বাদী হয়ে বনানী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশের তদন্ত ও আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে ডিএমপি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন জানান, ইসমাইল হোসেন তাঁর গ্রামের বাড়ি জামালপুর থেকে জমি বিক্রির প্রায় পাঁচ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে পাওয়া লাশের পরিচয় ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন নিয়ে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করছেন কর্মকর্তারা।। ছবি: সংগৃহীত

৪ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে চারটার দিকে তিনি ‘রাজ ক্লাসিক’ নামের একটি বাসে ওঠেন। বাস চলার একপর্যায়ে সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন তাঁর কাছে ভাড়া চাইলে তিনি লুঙ্গির কোচর থেকে টাকা বের করে ভাড়া মেটান। বিষয়টি দেখে সাজুর ধারণা হয় ইসমাইলের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা আছে। সাজু তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বাসের চালক সোহেল রানা ও হেলপার মো. মনির হোসেনকে জানালে তাঁরা ওই টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসমাইলকে তাঁর গন্তব্য গাজীপুরে না নামিয়ে বাসের অন্য যাত্রীদের বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাসটি ফাঁকা হয়ে গেলে সুপারভাইজার সাজু ও হেলপার মনির মিলে ইসমাইলের দুই হাত ও নাক-মুখ স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে ফেলেন। এরপর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। পরে মরদেহটি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশে ফেলে দিয়ে বাস নিয়ে মহাখালী বাস টার্মিনালে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।

ঘটনার পর পুলিশ এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে ‘রাজ ক্লাসিক’ নামের সন্দেহভাজন বাসটিকে শনাক্ত করে। পরে অভিযান চালিয়ে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বাসটি জব্দ করার পাশাপাশি সুপারভাইজার সাজু ও হেলপার মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে পৃথক অভিযানে বাসচালক সোহেল রানাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযানে আসামিদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দুটি গামছা, রক্তমাখা দুটি সিট কভার ও নিহতের ব্যবহৃত একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়।

ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে সাজুর বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতি মামলা এবং চালক সোহেলের বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতি ও দুটি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া সোহেলের বিরুদ্ধে আদালতের দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও ঝুলছিল।