আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নাশকতার আশঙ্কা, নিরাপত্তা বাড়ানোর তাগিদ চিফ প্রসিকিউটরের

0
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কিছু আসামির তৎপরতা সন্দেহজনক উল্লেখ করে নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এ ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। বিচারপ্রক্রিয়া ও তদন্ত ব্যাহত করতে কিছু আসামির গতিবিধি ও তৎপরতা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান চিফ প্রসিকিউটর।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, “এখানে যাঁরা নিরাপত্তার কাজ করেন, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তাঁরা তাঁদের সতর্ক করেছেন। কিছু কিছু আসামির গতিবিধি, তৎপরতা তাঁদের কাছে সন্দেহজনক লেগেছে। কিছু কিছু গোপন তথ্য তাঁদের কাছে আছে যে তাঁরা যেকোনো স্যাবোটেজ বা নাশকতামূলক ঘটনা ঘটাতে পারেন।”

সাম্প্রতিক সময়ে নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরও সতর্ক করে দেন। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের ভেতরে ও বাইরে প্রতিটি কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে। চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, “কেউ যদি কোনো অপতৎপরতা দেখাতে চান, এটা তাঁদের জন্য আত্মঘাতী হবে। এ রকম কোনো দুষ্টুচিন্তা কারও মনের মধ্যে যদি থাকে, কোনো অপরাধী যদি অন্য কোনো বিষয় চিন্তা করেন, এটা তাঁদের জন্য আত্মঘাতী বিষয় হবে।”

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে রোববার চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গুমের শিকার ৫৫টি পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হন, যাদের জবানবন্দি গ্রহণ করবে তদন্ত সংস্থা। ব্রিফিংকালে ওই ৫৫টি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “এই পরিবারগুলোর অভিযোগের তদন্ত যখনই শুরু হয়েছে, কিছু কিছু অপরাধীদের তৎপরতাও কিন্তু বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ট্রাইব্যুনালে যে বিচার চলছে, যাঁদের বিরুদ্ধে এখন বিচার চলছে, তাঁদের বিষয়ে প্রশাসনের লক্ষ রাখার প্রয়োজন আছে।” অপরাধীদের কোনোভাবে শিথিলভাবে না দেখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “অপরাধীকে বন্ধু মনে করার কোনো কারণ নেই। তাঁরা তাঁদের মতো করেই কিন্তু যেকোনো সময় ছোবল মারতে পারেন।”

ব্রিফিংয়ে নতুন গুম প্রতিরোধ আইনের বিষয়ে কথা বলেন আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ নামে একটি যুগোপযোগী আইন হতে যাচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে সারা দেশে গুমের বিচার একটি নতুন মাত্রায় গতি পাবে। তবে গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি মাথায় রেখে প্রসিকিউশন নিজেরা যেমন সতর্ক রয়েছে, তেমনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে তদন্ত কাজ যাতে কোনো ধরনের ‘স্যাবোটাজ’ বা নাশকতার কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সার্বিক বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান চিফ প্রসিকিউটর।