বৈশ্বিক সংকট এড়াতে জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

0
রাজধানীতে জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ও বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং নিয়ে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।। ছবি: সংগৃহীত

দেশের সার্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার ঝুঁকি কমাতে সরকার বিকল্প ও বহুমুখী জ্বালানি উৎস সন্ধানে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক সংকটের সময় জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করে। তাই জ্বালানি খাতে বহুমুখীকরণের এই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, জ্বালানির নতুন উৎস উন্মোচনে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করছে সরকার। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, এলএনজি আমদানির বিকল্প উৎস সন্ধান এবং ব্লু ইকোনমি বা সামুদ্রিক অর্থনীতির বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য একাধিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ভবনকে শতভাগ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব সরকারি দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সৌরবিদ্যুতের সংযোগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য চীন ও জাপানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নতুন বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি’। দেশে বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ডিজিটালাইজেশন সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের প্রশাসনিক হয়রানি থেকে মুক্ত রাখতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ ব্যবস্থার আদলে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে কেবল বন্যা, অবৈধ অভিবাসন বা বিভিন্ন সংকটের দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করার দিন শেষ। বরং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি, শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, পর্যটন খাত, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও বাণিজ্য সম্ভাবনাকে এখন বিশ্বদরবারে তুলে ধরা হচ্ছে।

আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তনের পর এই অধিবেশনে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা, জাতীয় আকাঙ্ক্ষা এবং বৈশ্বিক অবস্থান তুলে ধরার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তন, পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়নের অধিকার ও মহামারি প্রতিরোধের মতো আন্তর্জাতিক বিষয়ের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, রাতারাতি কোনো পরিবর্তন সম্ভব না হলেও সরকার টেকসই ও গুণগত পরিবর্তনের ভিত গড়ে তুলছে, যার লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও উদীয়মান দেশ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করা।