বেশিরভাগ সবজির কেজি ২০ টাকা কমেছে পেঁয়াজ ও ডিমের দাম

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ শীতের ভরা মৌসুমে সবজির বাজার এখন স্থিতিশীল। সরবরাহ বেড়ে দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে এসেছে। বেশিরভাগ সবজিই এখন ২০ টাকা কেজিতে নেমে এসেছে। কমেছে পেঁয়াজের দামও। প্রতি কেজিতে পেঁয়াজে এ সপ্তাহে কমেছে ৪০ টাকা। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না ঘটলে পুরো শীতকালটাই সবজির বাজার এমন স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে ইলিশ মাছের বাজার চড়া থাকলেও বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সরবরাহ বেড়েছে। এছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে খামারের মুরগির ডিমের দাম হালিতে কমেছে আরও ২ টাকা। রোববার যশোর শহরের বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্রটাই দেখা যায়।

বাজারে খুচরা সবজি বিক্রেতা নাসির আলী জানান, ফুলকপি,বাঁধাকপি, শিম, মুলো ও পালংশাক ২০ টাকা করে কেজি বিক্রি হচ্ছে। লাউ বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ২০ থেকে ৩০ টাকায়। ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বেগুন,শসা ও গাজর। বিটকপি ৫০ টাকা, পটল ৭০ টাকা ও টমেটো ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বড় বাজার এইচ এম এম রোডে সবজির পাইকারি বিক্রেতা ‘আরিফ ভাণ্ডার’-এর অন্যতম স্বত্বাধিকারী শাহাবুদ্দিন মাতুব্বর জানান, শীতের ভরা মৌসুম চলছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না ঘটলে আগামী দু মাস বাজারে সবজির সরবরাহ ভরপুর থাকবে। দামও থাকবে ক্রেতাদের নাগালে।

এদিকে বাজারে দেশি পুরেনো পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা গেলেও নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবররাহ বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৪০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৬০/৭০ টাকা। পুরোনো আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা ও নতুন আলো বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে।

বড় বাজার কালীবাড়ি এলাকার আড়তদার নিতাই সাহা জানান, সামনের সপ্তাহে মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম আরও কমে আসবে।

বাজারে সরবরাহ কম থাকায় ইলিশ মাছের দামও চড়া। রোববার বড় বাজার মাছবাজারে খুচরা বিক্রেতা এরশাদ আলী জানান, এক কেজির ওপরে ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২শ টাকা, ৭শ/৮শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২৮শ টাকা, ৫শ/৬শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১৮শ টাকা ও ৪শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ৮শ টাকা। তবে বাজারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সরবরাহ রয়েছে প্রচুর।

রোববার খুচরা মাছ বিক্রেতা আনিসুর রহমান ও গৌতম বিশ্বাস জানান, বাটা মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২শ টাকা,মায়া ৩শ টাকা,পুঁটি ২৫০/৩শ টাকা,খয়রা ৩৫০/৪শ টাকা,পাবদা ৩শ/৩৫০ টাকা, নাইলোটিকা ১৬০/২শ টাকা,শিং ৫শ/৮শ টাকা,ট্যাংরা ৫শ/৬শ টাকা,শোল ৫শ/৬শ টাকা, বাইম ৫শ/১ হাজার টাকা,গলদা চিংড়ি ৭শ/৮শ টাকা,রুই প্রতি কেজি ২শ/২২০ টাকা ও ২ কেজি ওজনের রুই ৩শ টাকা।

এ সপ্তাহে খামারের মুরগি ও গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৪০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩শ টাকা ও দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৪০ টাকা। আর গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা। এ সপ্তাহে আরও এক দফা খামারের মুরগির ডিমের দাম কমেছে। প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা দরে।