বাগেরহাটে রাসমেলায় উৎসবের আমেজ

0

 

বাগেরহাট সংবাদদাতা॥ বাগেরহাটের রামপালে শুরু হয়েছে দুইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী রাসমেলা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার হুড়কা ইউনিয়নের ঝলমলিয়া দিঘিরপাড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ৭দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। গত দুই বছরের করোনা মহামারী কাটিয়ে এ বছর রাসমেলা উপলক্ষে স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে অনাবিল আনন্দের আমেজ। মঙ্গলবার রাতে দেখা যায়, ঝলমলিয়া দিঘির পাড়ের এই মেলা উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসছেন অসংখ্য মানুষ। মেলায় রয়েছে বিভিন্ন রাইডস, মনোহরী খাবার, কাসা-পিতল, খেলনা, কসমেটিকসসহ প্রায় দুইশ দোকান। করোনাকালীন মেলায় সীমাবদ্ধতা থাকলেও এবার রয়েছে ব্যতিক্রমী নানান আয়োজন। এরমধ্যে রয়েছে আলোচনাসভা, বাউল গান, পালা গান, ধর্মীয় গীতি, পূজা-পার্বণ ইত্যাদি। এসব আয়োজন উপভোগ করতে পেরে খুশি দর্শনার্থীরা। খুলনা থেকে মেলায় ঘুরতে আসা আখি বিশ্বাস নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, পরিবারের সাথে মেলায় ঘুরতে এসেছি। গত দুই বছর তেমন কোনো আয়োজন হয়নি। কিন্তু এ বছর বড় পরিসরে এখানে মেলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পরে মেলায় ঘুরতে পেরে আমরা অনেক আনন্দিত। মনিরাজ মন্ডল নামের অপর এক ব্যক্তি বলেন, মেলা উপলক্ষে শ শ দোকানি তাদের পণ্যের পশরা নিয়ে এখানে এসেছেন। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে এই উৎসব শেষ হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি। মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি ও হুড়কা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তপন কুমার গোলদার বলেন, দুইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব উপলক্ষে ঝলমলিয়া দিঘির পাড়ে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতি বছর পূর্ণিমা তিথিতে শ্রী কৃষ্ণের স্মরণে রাস লীলার আয়োজন করেন সনাতন ধর্মালম্বরীরা। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা এ মেলা এখন সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, দুইশ বছরের সৌহার্দ্য ও সম্প্রতির মিলনমেলা এই রাস উৎসব। এখানকার মানুষ তাদের আজন্ম লালিত ধর্মীয় ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। আশা করি এই ধারাবাহিকতা সর্বদা বজায় থাকবে। এসময় রামপাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজিবুল আলম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল হক লিপন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।