বর্ণিল আয়োজনে যশোরে জাগরণী চক্রের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে নানা আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সুবর্ণজয়ন্তী ‘জাগরণের ৫০ বছর’। প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল সকালে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক পর্দা ওঠে।

সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচির সূচনা করা হয়। ৫০ জন শিল্পীর অংশগ্রহণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। এরপর কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে ‘জাগরণ শোভাযাত্রা’র উদ্বোধন করা হয়। সংস্থার অর্ধশত বছরের মানবিক ও উন্নয়নমূলক অভিযাত্রার প্রতীক হিসেবে ৫০ জন সুবিধাভোগীর মাধ্যমে ৫০টি পায়রা অবমুক্ত করা হয়।

জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি খন্দকার কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, নারী ও শিশু অধিকার, শিক্ষা ও মানবিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সমাজকে এগিয়ে নিতে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আজাদুল কবির আরজু। তিনি সংস্থার দীর্ঘ পথচলার অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সুবর্ণজয়ন্তীর ‘থিম সং’-এর সঙ্গে মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনের পর শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
শোভাযাত্রা শেষে সংস্থা কার্যালয় প্রাঙ্গণে ‘জাগরণ বৃক্ষ’ নামে একটি ছাতিম গাছ রোপণ করা হয়।

একই সঙ্গে সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এরপর কার্যালয় সংলগ্ন চত্বরে আর্ট ক্যাম্প ও ‘গল্প কথা’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা সংস্থার সঙ্গে তাদের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয় ‘জাগরণ সমাবেশ’। সমাবেশে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, পাঁচজন প্রান্তিক সুবিধাভোগীর জীবনকথা উপস্থাপন এবং আর্ট ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী প্রখ্যাত শিল্পীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া সংস্থায় ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের স্ত্রী বা মায়েদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপনী পর্বে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ব্যঞ্জন থিয়েটারের পরিবেশনায় ‘যশস্বী আর্যপুত্র’ নাটিকা মঞ্চস্থ হয়। এরপর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আতশবাজির ঝলকানির মধ্য দিয়ে উৎসবের প্রথম দিনের সমাপ্তি ঘটে। জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের এই সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব যশোরবাসীর মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।