ফারাক্কা লংমার্চের ৫০ বছর: পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে জোরালো কূটনৈতিক পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন

0
ফারাক্কা লংমার্চের ৫০ বছর পূর্তিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মানববন্ধনে নাগরিক সমাজের নেতারা — পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে।। ছ্বি: সংগৃহীত

ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ন্যায্য পানির হিস্যা ও সম্মানজনক সহাবস্থানের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন করেছে নাগরিক সমাজ। শনিবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ‘নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। তিনি বলেন, ফারাক্কা বাঁধ বাংলাদেশ ও ভারত — দুই দেশের জন্যই একটি মরণফাঁদ। এই বাঁধের কারণে বাংলাদেশের নদীগুলো নাব্যতা হারিয়ে শুষ্ক মৌসুমে তীব্র পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। পদ্মা, মহানন্দা, পুনর্ভবা, আত্রাইসহ উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোতে লবণাক্ততা বাড়ছে। কৃষি ও সেচ-সংকটে পরিবেশ বিপর্যয় ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তি হলেও বাংলাদেশ এখনো পানির ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছে না উল্লেখ করে শামসুল হুদা বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবিলম্বে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং একটি কার্যকর ও পরিবেশসম্মত পানি চুক্তি করতে হবে। নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে তিনি সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৬ মে ফারাক্কা লংমার্চ দিবসকে ‘জাতীয় পানি অধিকার দিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবি।

গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকারের জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কাজল দেবনাথ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ভারতের কাছে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে। পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, মানবিক বিপর্যয় এড়াতে সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে জোরালো ও আন্তরিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারাজের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে একতরফা সিদ্ধান্ত না নিয়ে নদী বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার ওপর জোর দেন নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন। তিনি নদী দখল ও দূষণ রোধে টাস্কফোর্স গঠনেরও আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন স্টেপ টুওয়ার্ডসের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার, গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ্মাবতী দেবি, কৃষিবিদ হারুনুর রশিদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ ও প্রতিবেশের মুখপাত্র ইবনুল সাঈদ এবং সাংবাদিক আবু সাঈদ খান প্রমুখ।

বনলতা নারী উন্নয়ন সংস্থা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টারসহ বিভিন্ন মানবাধিকার, ভূমি ও পানি অধিকার, নাগরিক অধিকার এবং পরিবেশবাদী সংগঠন এই মানববন্ধনে অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীরা ‘নদী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে’, ‘উজানের বাঁধ, ভাটির কান্না, এই অন্যায় আর না’ এবং ‘নদী বাঁচাও দেশ বাঁচাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।