ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে ফাঁকা দুই পদ, নজরে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

0
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়ে তোড়জোড় চলছে। আলোচনায় শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছেন রুহুল কবির রিজভী, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।। ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন—এমন তথ্য রাজনীতিতে চূড়ান্ত ধরে নিয়ে এখন বিএনপির সাংগঠনিক ও মন্ত্রিসভার বিন্যাস নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কে হবেন, তাঁর ছেড়ে দেওয়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পাবেন এবং তাঁর সংসদীয় আসনে উপ-নির্বাচনে কে লড়বেন—তা নিয়ে রাজনীতিতে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

বিএনপির শীর্ষ ও নীতিনির্ধারণী সূত্রের খবর অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে সমাসীন হলে দল ও মন্ত্রিসভা উভয় স্থানেই পদ শূন্য হবে। বিএনপি স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে দলীয় পদে আপাতত শুধু একজন ‘ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব’ নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

এর পাশাপাশি দলীয় প্রধানের স্থায়ী কমিটিতেও একটি পদ খালি হবে। এর আগে স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার মনোনীত হওয়ায় অন্য একটি পদ খালি হয়েছিল। তবে নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরে দলের আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতির কারণে কাউন্সিল পর্বের আগে স্থায়ী কমিটির এই শূন্য পদগুলো পূরণ নাও হতে পারে।

দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দৌড়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় রয়েছে। স্থায়ী কমিটির সম্ভাব্য শূন্য পদের ক্ষেত্রে আলোচনার দৌড়ে আছেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু এবং জয়নুল আবদীন ফারুক।

সম্ভাবনার বিষয়ে মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “তুলনামূলক তরুণ কেউ মহাসচিব পদে আসারও সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মীবান্ধব নেতাকেই এ পদের জন্য বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে। মূলত আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পছন্দ এবং তার সঙ্গে অ্যাডজাস্ট হতে পারে এমন কাউকেই মহাসচিব করা হতে পারে বলে আমার ধারণা।”

একই সুর ফুটে উঠেছে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদের বক্তব্যেও। তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছর ধরে রাজপথে থেকে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে রুহুল কবির রিজভীর অবদান সবচেয়ে বেশি। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।”

নিজেকে নিয়ে চলমান আলোচনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আমি দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য প্রকাশ করেই কাজ করছি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশেই দলের নেতাকর্মীদের পাশে এখনো অব্যাহত আছি।”

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি যোগ করেন, “আমি কিছুই জানি না। দল আমাকে যেভাবে দায়িত্ব দেবে, সেটা বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দলের নীতিনির্ধারকরাই ঠিক করবেন।”

এদিকে জনপ্রশাসন ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানাচ্ছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে খালি হওয়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বর্তমান প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম অথবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এছাড়া মির্জা ফখরুলের সংসদীয় ঠাকুরগাঁও আসনে উপ-নির্বাচনে তাঁর পরিবারের কেউ নাকি অভিজ্ঞ কোনো দলীয় নেতা মনোনয়ন পাবেন, সেটির সিদ্ধান্তও নির্ভর করছে বিএনপির চেয়ারম্যান ও দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।