অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাঁচ দিনই ভালো খেলার বার্তা নাজমুলের, ফিট হয়ে একাদশে লিটন

0
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মাঠে নামার আগে সংবাদ সম্মেলনে দলীয় পরিকল্পনা তুলে ধরছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।। ছবি: সংগৃহীত
২৩ বছর পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটের কঠিন পরীক্ষায় নামছে বাংলাদেশ দল। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) সকাল সাড়ে ৬টায় ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হবে দুই দল।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শক্তিশালী দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াইয়ের নামার আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, সফরকারীরা প্রতিটি সেশনে ধরে পাঁচ দিনই ভালো ক্রিকেট খেলতে চায়।

ম্যাচের আগের দিন ডারউইনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টাইগার দলপতি নাজমুল হোসেন বেশ কিছু স্বস্তির খবর দেন। বিশেষ করে চোট কাটিয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটার লিটন দাস শতভাগ ফিট হয়ে ওঠায় অধিনায়কের কণ্ঠে ছিল বাড়তি স্বস্তি। লিটনের ফেরা বাংলাদেশ দলের মিডল অর্ডার ও ব্যাটিং লাইনাপকে বাড়তি শক্তি যোগাবে বলে মনে করেন তিনি।

সিরিজ শুরুর আগে অবশ্য প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হেরে বেশ বড় ধাক্কাই খেয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এর ফলে দুই টেস্টের এই সিরিজে বাংলাদেশের শক্ত লড়াইয়ের সামর্থ্য নিয়ে দেশের ক্রিকেটপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞদের মনে তৈরি হয়েছে নানা সংশয়। তবে অধিনায়ক নাজমুল এসব আলোচনা বা ম্যাচ কয়দিনে গড়াবে তা নিয়ে একদমই ভাবছেন না। তাঁর দৃষ্টি কেবল ইতিবাচক ক্রিকেটের দিকে।

সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল বলেন, “আমরা তো খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই, প্রতিটা সেশন বাই সেশন খেলতে চাই। ম্যাচ চার দিন যাবে, পাঁচ দিন যাবে নাকি তিন দিন—এ ধরনের আলোচনা থাকবেই। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য থাকবে প্রতিটি মুহূর্তে সেরা ক্রিকেট তুলে ধরা।”

উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সর্বশেষ দুই টেস্টের সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ, যেখানে দুটি ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে হারতে হয়েছিল। তবে এরপর দীর্ঘ দুই দশকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বসেরা পেস আক্রমণ ও ড্রপ-ইন পিচের কঠিন কন্ডিশন সামলাতে ব্যাটারদের সহজাত আক্রমণাত্মক খেলার পরামর্শ দিয়েছেন শান্ত।

অস্ট্রেলীয় উইকেটে ব্যাটিং কৌশল তুলে ধরে টাইগারদের অধিনায়ক ব্যাখ্যা করেন, “নতুন বলে সব জায়গায় চ্যালেঞ্জ থাকে, এখানে হয়তো একটু বেশি থাকবে। তবে যে-ই ব্যাটিং করবে, তাকে রানের জন্যই খেলতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বমানের বোলিং অ্যাটাককে সামলাতে হলে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রেখে স্পষ্ট চিন্তাভাবনা নিয়ে ক্রিজে টিকে থাকা অত্যন্ত জরুরি।” একই সাথে দলগত পারফরম্যান্স ও ব্যক্তিগত বড় রান কিংবা ৫ উইকেটের সাফল্য নিশ্চিত করতে পুরো দল দারুণ আত্মবিশ্বাসী বলে মন্তব্য করেন তিনি।