প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করলে আবার যন্তর মন্তর, সিজেপির হুঁশিয়ারি

ভারতে নির্বাচনে কারসাজির অভিযোগ

0
রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিচ্ছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষ নেতারা।। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারসাজির অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সিইসিকে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আরও একবার যন্তর মন্তর আন্দোলনের মতো কঠোর কর্মসূচি শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহকে মূল চক্রান্তকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করে সিজেপির তিন প্রধান নেতা অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস সিইসির ইস্তফার দাবি জানান। সিজেপির নেতারা বলেন, জ্ঞানেশের ইস্তফা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা থামবেন না।

সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সবচেয়ে বড় দেশদ্রোহী এবং গণতন্ত্রের পক্ষে সবচেয়ে বিপজ্জনক। এই মুহূর্তে তাঁর ইস্তফা দেওয়া উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে অভিজিৎ দিপকে মোট তিনটি দাবি পেশ করেন। তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করলেই হবে না, তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু করতে হবে। কোন অদৃশ্য শক্তির নির্দেশে তিনি এই ধরনের দেশবিরোধী ও গণতন্ত্রবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা সবার জানা দরকার।

দ্বিতীয়ত, এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করে ২০২৫ সালে যে ভোটার তালিকা ছিল, তার আধারে নির্বাচন করতে হবে।

তৃতীয়ত, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগসংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইন সংশোধন করে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করতে হবে।

পাশাপাশি এসআইআর প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয় খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গড়ার দাবি জানিয়ে এ বিষয়ে শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে দলটি।

একই দাবি জানিয়ে নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের প্রধান কার্যালয়ে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমার বিশ্বাসঘাতক, দেশদ্রোহী ও গণতন্ত্র ধ্বংসকারী। ইস্তফা তাঁকে দিতেই হবে এবং কংগ্রেস এভাবে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস হতে দেবে না।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ।। ছবি: সংগৃহীত

রাহুল অভিযোগ করেন, অনেক আটঘাট বেঁধে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ এই ভোট চুরিতে নেমেছেন। প্রথমে আইন করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য দুই কমিশনারকে আইনি রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে এবং তারপর শুরু হয়েছে একের পর এক রাজ্যে ভোট চুরি। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকেই কীভাবে ভোট চুরি করা হচ্ছে তা তাঁরা দেখিয়ে আসছেন এবং আজ দুই নির্বাচন কমিশনার তা সত্য প্রতিপন্ন করেছেন।

গত বুধবার সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি গত ১০ মাসে ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিজেপিবিরোধী প্রায় সব শক্তি একযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে মুখর হয়েছে এবং তাকে অভিশংসন করার ভাবনা ভাবতে শুরু করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ভিডিও ভাষণ শোনান রাহুল গান্ধী, যেখানে তাঁরা ৩০ বছর ক্ষমতায় থাকা এবং ২০২৪-এর নির্বাচনে ৪০০-এর বেশি আসন পাওয়ার কথা বলছেন। ওই ভাষণ শুনিয়ে রাহুল বলেন, কোনো রাজনৈতিক নেতা এই ধরনের দাবি করেন না, কারণ গণতন্ত্রে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া (অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি) থাকে।

১৯৭১ সালের বাংলাদেশ যুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়ের পর ইন্দিরা গান্ধীকেও তীব্র জনরোষ ও প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল। অথচ নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহকে এই সত্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না, যা কেবল উত্তর কোরিয়ার মতো গণতন্ত্রহীন দেশেই সম্ভব।

রাহুল গান্ধী একটি চিঠি দেখিয়ে বলেন, কীভাবে তিনি জ্ঞানেশের নিয়োগের বিরোধিতা করেছিলেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা আমলে নেননি। তিনি বলেন, ভোট চুরি থেকে শুরু হয় আইন চুরি, আর ভোট চুরি করে যাঁরা পার্লামেন্টে আসছেন, তাঁরা বেআইনি আইন তৈরি করে সংবিধান ও প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করছেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তদন্তের আওতায় আসতেই হবে, কারণ তাঁরাই মূল চক্রান্তকারী। জ্ঞানেশ কুমারের রাজসাক্ষী হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।