প্রধানমন্ত্রী কাল নিউইয়র্ক যাচ্ছেন, সফরসঙ্গী চার মন্ত্রীসহ ৩৫ জন

0
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্রিফ করছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি বাংলায় ভাষণ দেবেন। রোববার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পররাষ্ট্রসচিব জানান, আন্তর্জাতিক এই সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবেন। ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সফর শেষ করে দেশের উদ্দেশে তাঁর রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন চারজন মন্ত্রীসহ মোট ৩৫ জন। সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ ছাড়া প্রতিনিধিদলে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব গোলাম মহিউদ্দিন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রসচিব উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানসহ উচ্চপর্যায়ের মোট পাঁচটি বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশ অধিবেশনের ফাঁকে দুটি বিশেষ ইভেন্টের আয়োজন করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য সাক্ষাতের বিষয়ে সচিব জানান, বহুপক্ষীয় সফরের কর্মসূচিতে পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তন আসতে পারে।

বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মাধ্যমে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ইতিবাচক রূপরেখা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার পথ উন্মোচিত হবে। একই অধিবেশনে একদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, অন্যদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন, যা দেশের জন্য এক বিরল, ঐতিহাসিক ও বিশেষ গৌরবের মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রসচিব।