প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও কমছে না

0

আমনের ভরা মৌসুমে চালের মূল্য বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দেবার পরও কমছে না চালের দাম। ক্রেতার অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই দাম বাড়ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযান চালানোর কথা বলছেন, কিন্তু কোথায় অভিযান চলছে বা অভিযানের ফল কী হচ্ছে তা জানা যাচ্ছে না। অনলাইন পত্রিকায় মাঝে মধ্যে দুয়েকটি খবরে ৫শ’ বস্তা মজুদের দায়ে লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কোথাও বা আরও কম অথবা, বেশি বলা হচ্ছে। কিন্তু এর কোনো খবর কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। বরং খবর আসছে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ভরা মৌসুমে চালের দাম কেন বাড়ছে তা খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার মন্ত্রীসভার বৈঠকে নির্দেশ দেন। জনসাধারণের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন হলে চালের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে নিশ্চয়ই।
সরকার তথা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নানা উদ্যোগ ও পদক্ষেপ সত্ত্বেও চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না কিছুতেই। প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে চালের দাম, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে দিশেহারা করে তুলছে। বর্তমানে মোটা চাল প্রতি কেজি ৫৮-৬০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। বাজারে মিনিকেট-নাজিরশাইল নামে যেসব চাল বিক্রি হয় সেগুলো প্রতি কেজি ৭০-৮০ টাকা। কাটারিভোগ, চিনিগুড়া, কালোজিরা প্রতিকেজির দাম শতাধিক। চালের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভোজ্যতেল-আটা-ময়দাসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম। একমাত্র সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মেলে। চালের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধির পেছনে ব্যবসায়ীদের মাত্রাতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতাসহ ১৫টি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা অজুহাত দিচ্ছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিসহ পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও চাঁদাবাজির। পশুখাদ্য, বেকারি আইটেম এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্যও চালের বাড়তি ব্যবহার হচ্ছে। তবে, বোরোর ফলন আশাব্যঞ্জক হলেও মূলত ব্যবসায়ী, মিল মালিক, আড়তদার ও আমদানিকারকদের কারসাজিতে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না কিছুতেই। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিস্কার হতে পারে। চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আমদানি বাড়াতে সরকার শুল্ককর ৬২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করলেও ব্যবসায়ীরা তেমন উৎসাহিত হননি। অর্থাৎ, পর্যাপ্ত চাল আমদানি করেননি তারা। বর্তমানে ব্যবসায়ীরা শুল্ককর ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। প্রশ্ন হলো, সরকার যদি তাদের দাবি মেনেও নেয় তাহলে কি ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত চাল আমদানি করে দেশের অভ্যন্তরে দাম কমানোর উদ্যোগ নেবেন? সেই নিশ্চয়তা কোথায়? নিকট অতীতে তেলসহ বেশ কিছু পণ্য আমদানিতে হাত দিয়ে কোনো ফল হয়নি। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত এবং সরকারের মজুদ থেকে ন্যায্যদামে খাবার উপযুক্ত চাল বিক্রি শুরু হলে অভিযান ছাড়াই মূল্য কমে যাবে। সরকারের কর্তাদের বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে।