পেরেক আল আমিন হত্যাকাণ্ডে এবার আটক টুটুল, আদালতে স্বীকারোক্তি

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের পূর্ব বারান্দী মালোপাড়া লিচুতলা এলাকায় আল-আমিন ওরফে পেরেক আল-আমিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে সফিয়ার রহমান টুটুল (২৮) নামে আরেক সন্ত্রাসীকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বুধবার সকালে সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তিতে শহরের নাজির শংকরপুরস্থ কোল্ড স্টোরের পেছনের একটি বাড়ির জানালার বাইরের সানশেডের উপর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।

পিবিআই বলছে, পেরেক আল-আমিন হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মেয়েলি ঘটনা নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রচার রয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে কোনো অবৈধ স্বর্ণ বিক্রির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে পেরেক আল-আমিন খুন হয়েছেন বলে জানা গেছে। আর হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করতে ইতোপূর্বে আটক গোলাম রসুল ৫০ হাজার টাকা দিতে চেয়েছিলেন আটক সফিয়ার রহমান টুটুলকে।

বুধবার আটক সফিয়ার রহমান টুটুল শহরের পূর্ব বারান্দী মোল্লাপাড়া কবরস্থান এলাকার মোসলেম আলীর ছেলে। বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র এসআই মো. মাসুদ জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা চুড়ামনকাটি এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় সেখান থেকে পেরেক আল-আমিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত টুটুলকে তারা আটক করেন। পরে তার স্বীকারোক্তিতে নাজির শংকরপুরস্থ কোল্ড স্টোরের পেছনের জনৈক ফজের আলীর বাড়ির জানালার বাইরের সানশেডের উপর লুকিয়ে রাখা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করা হয়।

আটকের পর টুটুলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পেরেক আল-আমিনকে হত্যায় সহায়তা করতে ইতোপূর্বে আটক গোলাম রসুল তার সাথে ৫০ হাজার টাকায় কন্ট্রাক্ট করেন। তাকে বলা হয়, পেরেক আল-আমিনের কাছে স্বর্ণের বার রয়েছে।

তাকে হত্যা করে বারগুলি ছিনিয়ে নিতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন গত ২০ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে পেরেক আল-আমিনকে তার চৌরাস্তা মোড়ের দোকান থেকে ডেকে নিয়ে আসেন গোলাম রসুল ও টুটুল।

পরে তারা অম্বিকা বসুলেন কাঁসারিপট্টির জনৈক সুমনের দোকান থেকে এক সাথে চা পান করেন। এরপর পেরেক আল-আমিনের মোটরসাইকেলে করে তারা ৩ জন পূর্ব বারান্দী মালোপাড়া লিচুতলার জনৈক বাবুর মেহগনি বাগানে যান। সেখানে যাওয়ার পর কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই পেরেক আল-আমিনের চোখে মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করেন টুটুল। একই সাথে কোমরে থাকা চাকু বের করে আল-আমিনের শরীরে দুই দফা আঘাত করেন টুটুল। পরে একই চাকু দিয়ে পেরেক আল-আমিনের শরীরে উপর্যুপরি আঘাত করেন গোলাম রসুল।

তারা পেরেক আল-আমিনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর টুটুলের বাড়িতে যান। বাড়িতে চাকু রেখে বাইরে যান তারা। এরপর টুটুলকে কন্ট্রাক্টের ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ১৫ হাজার টাকা দেন গোলাম রসুল। টাকা দেওয়ার পর আবার দুই হাজার টাকা নিয়ে নেন গোলাম রসুল।

পরে গোপনে বাড়ি থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাকুটি নিয়ে গোলাম রসুলের অগোচরে নাজির শংকরপুরের জনৈক ফজের আলীর বাড়ির জানালার বাইরে সানশেডের উপর চাকুটি লুকিয়ে রাখেন টুটুল। পরবর্তীতে তারা দুই জনে ঝিকরগাছায় চলে যান। সেখানে দুই দিন আত্মগোপনে থাকার পর যে যার মতো অন্যত্র চলে যান।